মক্কা ও মদিনার পবিত্র মসজিদে তারাবিতে কোরআন খতম, ইমামতি করবেন সুদাইস ও বুদাইর

পবিত্র রমজান মাসের শেষ দশকে মুসলিম উম্মাহর জন্য বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ এক আয়োজন হতে যাচ্ছে। মসজিদুল হারাম (Masjid al-Haram) ও মসজিদে নববী (Al-Masjid an-Nabawi)–তে তারাবির নামাজে পবিত্র কোরআন খতম অনুষ্ঠিত হবে। মক্কায় তারাবির নামাজে ইমামতি করবেন শায়খ ড. আবদুর রহমান আল-সুদাইস (Abdur Rahman Al-Sudais) এবং মদিনায় ইমামতি করবেন শায়খ ড. সালেহ আল-বুদাইর (Saleh Al-Budair)।

সোমবার (১৬ মার্চ) পবিত্র দুই মসজিদের ধর্মবিষয়ক পরিচালনা পর্ষদ এ তথ্য নিশ্চিত করেছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, রমজানের শেষ দশকে তারাবির নামাজে কোরআন খতম উপলক্ষে সব ধরনের প্রস্তুতি ইতোমধ্যেই সম্পন্ন করা হয়েছে।

মসজিদুল হারাম ও মসজিদে নববীর ধর্মবিষয়ক বিভাগ জানিয়েছে, মুসল্লিদের ইবাদতের জন্য শান্ত ও উপযোগী পরিবেশ নিশ্চিত করতে বিশেষ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। নামাজের সময় যাতে শৃঙ্খলা বজায় থাকে, সে জন্য মসজিদের ভেতরে বিভিন্ন ভাষায় প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা প্রদান করা হচ্ছে। পাশাপাশি মসজিদের শিষ্টাচার মেনে চলার ব্যাপারেও মুসল্লিদের সচেতন করা হচ্ছে।

প্রতি বছর রমজান মাসে মক্কা ও মদিনার এই দুই পবিত্র মসজিদে তারাবি ও তাহাজ্জুদের নামাজে পবিত্র কোরআন খতম করা হয়। কোরআন খতমের দিন লাখো মুসল্লির উপস্থিতিতে পুরো পরিবেশ এক অনন্য আধ্যাত্মিক আবহে ভরে ওঠে। নামাজ শেষে মুসলিম উম্মাহর শান্তি, কল্যাণ ও সমৃদ্ধি কামনায় দীর্ঘ মোনাজাত করা হয়।

এদিকে মক্কার মসজিদুল হারামে কোরআন খতমের দিন মুসল্লিদের অতিরিক্ত ভিড় নিয়ন্ত্রণে কিছু বিধি-নিষেধও আরোপ করা হয়েছে। নামাজের সময় কেউ যদি মসজিদ থেকে বের হয়ে যান, তাহলে পরে পুনরায় মসজিদের ভেতরে প্রবেশের সুযোগ পাবেন না—এমন নির্দেশনা জারি করেছে কর্তৃপক্ষ।

বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, পবিত্র মসজিদুল হারামে টানা ৩৬ বছর তারাবির নামাজে কোরআন খতমে ইমামতি করতে যাচ্ছেন শায়খ ড. আবদুর রহমান আল-সুদাইস। তিনি মসজিদুল হারামের প্রধান ইমাম ও খতিব এবং মক্কা ও মদিনার পবিত্র দুই মসজিদের পরিচালনা পর্ষদের প্রধান হিসেবেও দায়িত্ব পালন করছেন।

১৯৮৪ সাল থেকে তিনি টানা ৪৩ বছর ধরে মসজিদুল হারামের ইমাম ও খতিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসছেন, যা মুসলিম বিশ্বের জন্য এক দীর্ঘ ও গুরুত্বপূর্ণ সেবার ইতিহাস হিসেবে বিবেচিত।