লারিজানি হ’\ত্যার জবাবে ‘বিধ্বংসী প্রতিশোধ’-এর হুঁশিয়ারি ইরানের, ক্ষেপণাস্ত্র হামলার দাবি

ইরানের সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের সচিব আলী লারিজানি (Ali Larijani)-কে ইসরায়েলি বিমান হামলায় হ’\ত্যার ঘটনায় ‘নির্ণায়ক ও অনুশোচনামূলক’ প্রতিশোধ নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন দেশটির সেনাপ্রধান আমির হাতামি (Amir Hatami)।

এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে হাতামি এই হ’\ত্যাকাণ্ডের তীব্র নিন্দা জানিয়ে বলেন, ইরানের পক্ষ থেকে যে জবাব দেওয়া হবে তা হবে অত্যন্ত শক্তিশালী ও বিধ্বংসী। সাম্প্রতিক দিনগুলোতে মধ্যপ্রাচ্যে তীব্র উত্তেজনার মধ্যে এই শীর্ষ নিরাপত্তা কর্মকর্তার মৃত্যু ইরান-ইসরায়েল সংঘাতকে নতুন ও ভয়াবহ মাত্রায় নিয়ে গেছে।

সেনাপ্রধানের এই কড়া বার্তার পর পুরো অঞ্চলে যু’\দ্ধের আশঙ্কা আরও তীব্র হয়ে উঠেছে।

পাল্টা হামলার দাবি আইআরজিসির

ইরানের সেনাবাহিনীর এই হুমকির পরপরই দেশটির প্রভাবশালী সামরিক বাহিনী ইসলামি রেভোল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) এক বিবৃতিতে জানায়, তারা ইতোমধ্যে ইসরায়েলের মধ্যাঞ্চল লক্ষ্য করে একাধিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে।

আইআরজিসি বলেছে, এই হামলা ‘শহীদ ডক্টর আলী লারিজানি ও তাঁর সঙ্গীদের’ রক্তের প্রতিশোধ হিসেবে চালানো হয়েছে। ইরানের নিরাপত্তা কাঠামোয় এই বাহিনীটি বিশেষ প্রভাবশালী এবং প্রতিশোধমূলক অভিযানে তাদের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ।

ইসরায়েলের ভেতরে এই ক্ষেপণাস্ত্র হামলার ফলে কী পরিমাণ ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে তা তাৎক্ষণিকভাবে জানা না গেলেও ইরান তাদের সামরিক সক্ষমতার পূর্ণ ব্যবহারের ইঙ্গিত দিয়েছে।

জনমনে ক্ষোভ, রাজপথে বিক্ষোভ

আলী লারিজানি ইরানের নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের একজন গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিত্ব ছিলেন। তার মৃত্যু তেহরানের জন্য বড় ধরনের কৌশলগত ধাক্কা হিসেবে দেখা হচ্ছে।

এই হ’\ত্যাকাণ্ডের পর থেকেই ইরানে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। রাজপথে বিক্ষোভকারীরা ইসরায়েলের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানাচ্ছেন।

বিশ্লেষকদের মতে, সেনাপ্রধান আমির হাতামির বক্তব্য মূলত সেই জনআকাঙ্ক্ষারই প্রতিফলন।

সংঘাত আরও ঘনীভূত

ইরানের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, তাদের সার্বভৌমত্বের ওপর যেকোনো আঘাতের জবাব তারা কঠোরভাবেই দেবে এবং সাম্প্রতিক এই পাল্টা হামলা কেবল শুরু।

বর্তমান পরিস্থিতিতে মধ্যপ্রাচ্যের আকাশে যু’\দ্ধের মেঘ আরও ঘন হয়ে উঠছে। ইসরায়েলের ওপর ইরানের সরাসরি ক্ষেপণাস্ত্র হামলার পর তেল আবিবও বড় ধরনের পাল্টা আক্রমণের প্রস্তুতি নিচ্ছে বলে জানা গেছে।

আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় বারবার দুই পক্ষকে সংযত হওয়ার আহ্বান জানালেও মাঠপর্যায়ের বাস্তবতা ভিন্ন ইঙ্গিত দিচ্ছে। ইরানের সেনাবাহিনী ও আইআরজিসির সমন্বিত অবস্থান স্পষ্ট করে দিয়েছে—লারিজানি হ’\ত্যার ঘটনা তারা কোনোভাবেই হালকাভাবে নিচ্ছে না।