পবিত্র ঈদুল ফিতরকে ঘিরে ঘরমুখো মানুষের ঢল নামলেও এবারের ঈদযাত্রায় স্বস্তির চিত্রই বেশি চোখে পড়ছে। টানা সাত দিনের ছুটি শুরু হওয়ায় কর্মজীবী মানুষ সোমবার রাত থেকেই বাড়ির পথে রওনা দিয়েছেন। সড়ক, রেল ও নৌপথে যাত্রীদের উপচেপড়া ভিড় থাকলেও গতবারের মতো তীব্র ভোগান্তির দৃশ্য দেখা যাচ্ছে না।
সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, দীর্ঘ ছুটির কারণে যাত্রীরা ছড়িয়ে-ছিটিয়ে বাড়ি যাওয়ায় চাপ কিছুটা কমেছে। ধারণা করা হচ্ছে, এবার প্রায় দেড় কোটি মানুষ রাজধানী ঢাকা ছাড়বেন পরিবারের সঙ্গে ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করতে।
ঈদযাত্রা শুরু হয় গত শুক্রবার থেকেই। অনেকেই আগেভাগে পরিবারের সদস্যদের বাড়ি পাঠিয়ে দিয়েছেন। শবেকদরের ছুটি ও অতিরিক্ত ছুটি মিলিয়ে বেসরকারি চাকরিজীবীদের একটি বড় অংশ সোমবারই রওনা হয়েছেন। শিক্ষার্থীরাও প্রথম চারদিনে বাড়ি ফিরেছেন। ফলে সরকারি ছুটি শুরু হলেও চাপ থাকলেও তা সহনীয় পর্যায়েই রয়েছে।
সড়কে নেই দীর্ঘ যানজট
রাজধানীর বিভিন্ন বাস টার্মিনাল, রেলস্টেশন ও সদরঘাট ঘুরে দেখা গেছে, যাত্রীদের ভিড় থাকলেও সড়কে দীর্ঘ যানজটের চিত্র নেই। বিশেষ করে গাবতলী বাস টার্মিনালে যাত্রী খুঁজে হাঁকডাক করতে দেখা গেছে পরিবহন সংশ্লিষ্টদের।
বাস কাউন্টার সংশ্লিষ্টরা জানান, লম্বা ছুটির কারণে নারী-শিশুসহ অধিকাংশ মানুষ আগেই ঢাকা ছেড়েছেন। ফলে এখন কর্মজীবীদের চাপ থাকলেও তা নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের যাত্রীরা পদ্মা সেতু ব্যবহার করায় গাবতলীতে যাত্রী কমে গেছে।
অন্যদিকে সায়েদাবাদ ও মহাখালী বাস টার্মিনালেও প্রত্যাশিত চাপ দেখা যায়নি। এতে নির্বিঘ্নেই যাত্রীরা গন্তব্যে রওনা হতে পারছেন। আজহারুল ইসলাম নামে এক যাত্রী বলেন, “এবার চাপ কম থাকায় যাত্রা অনেকটাই স্বস্তিদায়ক।”
প্রতিবারের মতো এবারও ঢাকা-চট্টগ্রাম, ঢাকা-বগুড়া ও ঢাকা-সিলেট মহাসড়কে যানবাহনের চাপ থাকলেও দীর্ঘ যানজট হয়নি। তবে আজ বুধবার সবচেয়ে বেশি যাত্রী ঢাকা ছাড়বেন বলে কিছুটা চাপ বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
ট্রেনে বাড়ছে যাত্রী, তবু নিয়ন্ত্রণে পরিস্থিতি
রাজধানীর কমলাপুর রেলস্টেশন থেকে প্রতিদিন প্রায় ৬০-৬৫ হাজার যাত্রী দেশের বিভিন্ন গন্তব্যে যাত্রা করছেন। যাত্রীর চাপ বাড়লেও অতিরিক্ত ট্রেন ও কোচ সংযোজনের মাধ্যমে পরিস্থিতি সামাল দেওয়া হচ্ছে।
স্টেশন ম্যানেজার সাজেদুল ইসলাম জানিয়েছেন, ঈদ উপলক্ষে ৪৪ জোড়া আন্তঃনগর ট্রেন চলাচল করছে। এর সঙ্গে পাঁচ জোড়া বিশেষ ট্রেন যুক্ত হয়েছে। বেশিরভাগ ট্রেন সময়মতো চলাচল করায় যাত্রীদের ভোগান্তি কমেছে।
তিনি জানান, শুধুমাত্র নীলসাগর এক্সপ্রেস কিছুটা দেরিতে ছেড়েছে, অন্য ট্রেনগুলো নির্ধারিত সময়েই চলেছে। আজ ও আগামীকাল যাত্রীর চাপ আরও বাড়বে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
নৌপথে বাড়ছে ভিড়
সরকারি ছুটির প্রথম দিন থেকেই সদরঘাটে ঘরমুখো মানুষের ভিড় বাড়তে শুরু করেছে। যাত্রীরা আগেভাগেই ঘাটে এসে টিকিট সংগ্রহ করছেন এবং নির্ধারিত সময়ে লঞ্চে ওঠার অপেক্ষায় থাকছেন।
মুন্সীগঞ্জ, নারায়ণগঞ্জ ও চাঁদপুরের স্বল্প দূরত্বের যাত্রীরা নিয়মিত লঞ্চে যাত্রা করছেন। আর বরিশাল, ভোলা, পটুয়াখালীসহ দক্ষিণাঞ্চলের যাত্রীরা আগেই টিকিট নিশ্চিত করছেন।
নৌপথের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে শিমুলিয়া ট্যুরিস্ট ঘাট পরিদর্শন করে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দিয়েছেন নৌ প্রতিমন্ত্রী রাজিব আহসান। যাত্রীদের নিরাপদ ও স্বাচ্ছন্দ্যময় যাত্রা নিশ্চিত করতে ভিড় নিয়ন্ত্রণ ও সেবার মান উন্নয়নের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়েছে।
ঈদের দিন বন্ধ মেট্রোরেল
ঈদ উপলক্ষে টানা ছুটির মধ্যেও রাজধানীতে মেট্রোরেল চলাচল অব্যাহত থাকলেও শুধুমাত্র ঈদের দিন তা বন্ধ থাকবে। ঢাকা ম্যাস ট্রানজিট কোম্পানি লিমিটেড (Dhaka Mass Transit Company Limited) জানিয়েছে, ঈদের পরদিন থেকে আবার স্বাভাবিক সূচিতে মেট্রোরেল চলাচল শুরু হবে।
উল্লেখ্য, শবেকদরের ছুটির সঙ্গে নির্বাহী আদেশে অতিরিক্ত ছুটি যুক্ত হওয়ায় এবারের ঈদে টানা সাত দিনের ছুটি পেয়েছেন সরকারি-বেসরকারি চাকরিজীবীরা। চাঁদ দেখা সাপেক্ষে আগামী ২০ বা ২১ মার্চ দেশে পবিত্র ঈদুল ফিতর উদযাপিত হবে। ২৪ মার্চ থেকে পুনরায় খুলবে অফিস-আদালত, ব্যাংক-বিমা ও অন্যান্য প্রতিষ্ঠান।
