চলতি অর্থবছরের অক্টোবর-ডিসেম্বর প্রান্তিকে দেশে মোট ৮৬৭ কোটি ৬৪ লাখ মার্কিন ডলার রেমিট্যান্স এসেছে, যা আগের ত্রৈমাসিকের তুলনায় ১৪.৩৮ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। একই সঙ্গে বছরওয়ারি হিসেবে এই প্রবৃদ্ধি প্রায় ২০ শতাংশ।
বিস্তারিত হিসাবে দেখা যায়, সৌদি আরব থেকে এসেছে ১৩০ কোটি ৬১ লাখ ডলার, এবং সংযুক্ত আরব আমিরাত থেকে এসেছে ১১৭ কোটি ৫০ লাখ ডলার। এই তথ্য উঠে এসেছে বাংলাদেশ ব্যাংক (Bangladesh Bank)-এর হালনাগাদ প্রতিবেদনে।
খাত সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, প্রবাসী বাংলাদেশিদের মধ্যে ব্যাংকিং চ্যানেলের প্রতি আস্থা বৃদ্ধি এবং সরকারের কার্যকর নীতিগত পদক্ষেপ এই প্রবৃদ্ধির মূল কারণ। দেশভিত্তিক পরিসংখ্যানে দেখা যায়, যুক্তরাজ্য থেকে তিন মাসে এসেছে ১১৪ কোটি ৫৩ লাখ ডলার, মালয়েশিয়া থেকে ৯৩ কোটি ৩৯ লাখ ডলার এবং যুক্তরাষ্ট্র থেকে এসেছে ৬৫ কোটি ৮৪ লাখ ডলার।
ব্যাংক কর্মকর্তা জানান, দীর্ঘদিন ধরে সৌদি আরব শীর্ষ রেমিট্যান্স প্রেরণকারী দেশ ছিল। তবে সাম্প্রতিক সময়ে সংযুক্ত আরব আমিরাত ও যুক্তরাষ্ট্রও শীর্ষ তালিকায় উঠে এসেছে।
অপরদিকে, অক্টোবর-ডিসেম্বর প্রান্তিকে বিদেশগামী শ্রমিকের সংখ্যাও উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। এই সময়ে মোট ২ লাখ ৯৩ হাজার ৪৭৪ জন শ্রমিক বিদেশে গেছেন, যার মধ্যে ১৮ হাজার ২২৫ জন নারী। তাদের মধ্যে ৬৩.৭৬ শতাংশই গেছেন সৌদি আরবে। এছাড়া কাতার, সিঙ্গাপুর ও কুয়েতেও উল্লেখযোগ্য সংখ্যক শ্রমিক গিয়েছেন।
ব্যাংকিং চ্যানেলভিত্তিক বিশ্লেষণে দেখা যায়, মোট রেমিট্যান্সের বড় অংশ এসেছে বেসরকারি বাণিজ্যিক ব্যাংকের মাধ্যমে ৬১২ কোটি ৯৪ লাখ ডলার (৭০.৬৪ শতাংশ), রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকের মাধ্যমে এসেছে ১৬৩ কোটি ৪৭ লাখ ডলার (১৮.৮৪ শতাংশ), বিশেষায়িত ব্যাংকের মাধ্যমে ৮৯ কোটি ২৭ লাখ ডলার (১০.২৯ শতাংশ)। অন্যদিকে বিদেশি বাণিজ্যিক ব্যাংকের মাধ্যমে এসেছে মাত্র ১ কোটি ৯৪ লাখ ডলার (০.২২ শতাংশ)।
চলতি অর্থবছরের জুলাই থেকে ১৪ মার্চ পর্যন্ত দেশে মোট রেমিট্যান্স এসেছে ২,৪৬৫ কোটি ডলার, যা আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ২২.৬০ শতাংশ বেশি। গত অর্থবছরের একই সময়ে এই পরিমাণ ছিল ২,০১১ কোটি ডলার।
সংশ্লিষ্টদের মতে, রেমিট্যান্স প্রবাহের এই ধারাবাহিকতা বজায় থাকলে দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ আরও শক্তিশালী হবে। বাংলাদেশ ব্যাংক অনুযায়ী, ১৬ মার্চ পর্যন্ত বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ দাঁড়িয়েছে ৩৪.২২ বিলিয়ন ডলার। তবে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ)-এর বিপিএম-৬ পদ্ধতি অনুযায়ী রিজার্ভের পরিমাণ ২৯.৫২ বিলিয়ন ডলার।
