নেপালের লিগে নতুন ইতিহাস সানজিদার, ঈদ ছেড়ে মাঠে নামার প্রস্তুতি

দেশের নারী ফুটবলে আরেকটি মাইলফলক যোগ করলেন সানজিদা আক্তার (Sanjida Akter)। এবার তিনি নেপালের ক্লাব ফুটবলে খেলতে যাচ্ছেন, যা বাংলাদেশের নারী ফুটবলের ইতিহাসে প্রথম। কাঠমান্ডুতে আজই তার মাঠে নামার কথা রয়েছে। ক্লাব ফুটবলে বাংলাদেশ থেকে তিনিই প্রথম কোনো নারী ফুটবলার, যিনি নেপালের ঘরোয়া লিগে অংশ নিতে যাচ্ছেন।

গতকাল দুপুরে বিমানে ওঠার আগে সানজিদা নিজেই জানান, ‘আমি-ই প্রথম ফুটবলার নেপালের লিগে খেলতে যাচ্ছি।’ এর আগে তিনি ভারতের ইস্ট বেঙ্গল ক্লাব (East Bengal Club)-এ খেলেছেন, যেখানে বাংলাদেশের নারী ফুটবলার হিসেবে তিনিই প্রথম প্রতিনিধিত্ব করেন। নব্বইয়ের দশকের শুরুতে পুরুষদের মধ্যে আসলাম, মোনেম মুন্না ও গাউস ইস্ট বেঙ্গলের জার্সিতে খেলেছিলেন, সেই ধারাবাহিকতায় নারী ফুটবলেও নতুন অধ্যায় যোগ করলেন সানজিদা।

নেপাল শহরটি সানজিদার জন্য একেবারেই নতুন নয়। এখানেই তিনি দুইবার সাফ জিতে বাংলাদেশকে ট্রফি এনে দিয়েছেন। তাই কাঠমান্ডুতে ক্লাব ফুটবলে খেলতে যাওয়া তার কাছে ভিন্ন অনুভূতির, একধরনের রোমাঞ্চও কাজ করছে বলে জানিয়েছেন তিনি।

নেপালের লিগের মাঝপথে যোগ দিচ্ছেন সানজিদা। তিনি খেলবেন ঝাপা এফসি (Jhapa FC)-এর হয়ে। ইতোমধ্যে ছয়টি ম্যাচ শেষ হয়ে গেছে, সামনে আরও এক মাসের লিগ বাকি। পুরো সময়টাই তাকে দলের সঙ্গে থাকতে হবে।

আক্রমণভাগের ফুটবলার হিসেবে সানজিদার পছন্দ ৭ বা ১০ নম্বর জার্সি। তবে নেপালের ক্লাবে এই নম্বর দুটি আগে থেকেই অন্য খেলোয়াড়দের দখলে থাকায় তাকে ৬ নম্বর জার্সি দেওয়া হয়েছে। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘জার্সির নম্বর বড় বিষয় না। এটা একটা সংখ্যা মাত্র। আসল বিষয় হলো খেলা—মানুষ সেটাই দেখবে।’

ঈদ সামনে থাকলেও ব্যস্ততায় সময় কাটছে তার। বিভিন্ন টেলিভিশন চ্যানেলের ঈদ অনুষ্ঠান নিয়ে দৌড়ঝাঁপ করতে হয়েছে—কখনো বাংলা ভিশন, কখনো চ্যানেল টুয়েন্টিফোর। তবে এত ব্যস্ততার মাঝেও নিজের জন্য সময় ছিল না বললেই চলে। সবচেয়ে বড় আফসোস, ময়মনসিংহে বাবা-মায়ের সঙ্গে ঈদ করা হচ্ছে না।

তিনি বলেন, ‘দুই বছর ধরে বাড়িতে ঈদ করা হয় না। এবার ভেবেছিলাম যাব, সব প্রস্তুতিও ছিল। কিন্তু হঠাৎ করেই নেপাল লিগে খেলার বিষয়টি নিশ্চিত হওয়ায় সব পরিকল্পনা বদলে গেছে।’

নেপালের ক্লাব ফুটবলে বিদেশি খেলোয়াড় কোটা চারজন। সানজিদা জানান, তার দল ঝাপা এফসিতে ইতোমধ্যে ভুটানের একজন ফুটবলার রয়েছেন। তিনি যোগ দিলে বিদেশি খেলোয়াড়ের সংখ্যা হবে দুইজন। অন্য কেউ যোগ দেবেন কি না, তা এখনো নিশ্চিত নয়।

২০২৪ সালে সাফ চ্যাম্পিয়ন হওয়ার পর ইংলিশ কোচ পিটার বাটলার (Peter Butler)-এর সঙ্গে অধিনায়ক সাবিনা খাতুন (Sabina Khatun)-সহ কয়েকজন সিনিয়র খেলোয়াড়ের দ্বন্দ্ব তৈরি হয়। সেই সময় সানজিদা সাবিনাদের পক্ষেই অবস্থান নেন। পরবর্তীতে অনেকেই জাতীয় দলে ফিরলেও সাবিনা, মাসুরা, মাতসুসিমা ও সানজিদাদের আর ফেরা হয়নি।

এদিকে সাবিনারা ফুটসাল সাফে অংশ নিলেও সানজিদা সেই প্রস্তাব ফিরিয়ে দিয়ে পুলিশ দলের হয়ে লিগ খেলেছেন, যা তার ক্যারিয়ারের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত হিসেবে দেখা হচ্ছে।