ইরানকে ঘিরে ট্রাম্পের কড়া হুঁশিয়ারি, হরমুজ প্রণালির দায়িত্ব ছেড়ে দেওয়ার ইঙ্গিত

ইরানকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা আরও বাড়িয়ে দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প (Donald Trump)। তিনি সরাসরি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, ইরানের এখনো যা কিছু ‘অবশিষ্ট’ আছে, তা-ও শেষ করে দেওয়া হতে পারে। একই সঙ্গে কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালির দায়িত্ব অন্য দেশগুলোর হাতে ছেড়ে দেওয়ার ইঙ্গিতও দিয়েছেন তিনি।

বুধবার নিজের মালিকানাধীন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে (Truth Social) দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প এ মন্তব্য করেন। সেখানে তিনি প্রশ্ন তোলেন—যুক্তরাষ্ট্র যদি এই জলপথের দায়িত্ব থেকে সরে দাঁড়ায়, তবে পরিস্থিতি কোথায় গিয়ে দাঁড়াবে।

বিশ্বের জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ রুট হরমুজ প্রণালি (Strait of Hormuz)। তবে ট্রাম্প দাবি করেন, যুক্তরাষ্ট্র সরাসরি এই পথ ব্যবহার করে না। তিনি লিখেছেন, “আমরা যদি ইরানি সন্ত্রাসী রাষ্ট্রের অবশিষ্টাংশ শেষ করে দিই এবং যারা এই প্রণালি ব্যবহার করে, তাদের হাতেই এর দায়িত্ব ছেড়ে দিই—তাহলে কী ঘটবে? এতে আমাদের অনেক নিষ্ক্রিয় মিত্র দ্রুত সক্রিয় হয়ে উঠবে।”

অন্যদিকে, ইরান বরাবরের মতোই বলছে—হরমুজ প্রণালি বন্ধ নয়, বরং খোলা রয়েছে। তবে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল হামলা অব্যাহত রাখলে তাদের মিত্রদেশগুলোর জাহাজকে এই প্রণালি ব্যবহার করতে দেওয়া হবে না বলেও হুঁশিয়ারি দিয়েছে তেহরান। যদিও চলমান উত্তেজনার মধ্যেই ইরানের অনুমতি নিয়ে ভারত, তুরস্ক ও পাকিস্তানের কয়েকটি তেলবাহী ট্যাংকার প্রণালিটি অতিক্রম করেছে বলে খবর পাওয়া গেছে।

পরিস্থিতির আরও অবনতি ঘটে যখন ইরানে বিশ্বের বৃহত্তম প্রাকৃতিক গ্যাসক্ষেত্রগুলোর একটিতে হামলার খবর প্রকাশ্যে আসে। এই ঘটনার পরপরই বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা দেখা দেয় এবং অপরিশোধিত তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ১০৮ ডলার ছাড়িয়ে যায়।

বুধবার ব্রেন্ট ক্রুড অয়েলের (Brent Crude Oil) দাম দাঁড়ায় ব্যারেলপ্রতি ১০৮ দশমিক ৬০ ডলার, যা আগের দিনের তুলনায় প্রায় পাঁচ শতাংশ বেশি। জ্বালানির এই মূল্যবৃদ্ধি যুক্তরাষ্ট্রের ওপর অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক চাপ আরও বাড়িয়ে তুলেছে।

এই প্রেক্ষাপটে যুদ্ধের শুরু থেকেই ন্যাটোভুক্ত দেশ ও এশীয় মিত্রদের হরমুজ প্রণালিতে যুদ্ধজাহাজ পাঠানোর আহ্বান জানিয়ে আসছেন ট্রাম্প। তবে একাধিকবার আহ্বান সত্ত্বেও যুক্তরাজ্য, জার্মানি, ফ্রান্স, ইতালি, গ্রিস ও স্পেনসহ ইউরোপীয় ইউনিয়নের (European Union) প্রায় কোনো দেশই এখন পর্যন্ত সাড়া দেয়নি। উল্লেখযোগ্যভাবে, এসব দেশই ন্যাটোর সদস্য।

এদিকে হরমুজ প্রণালির ওপর নির্ভরশীল এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যেও একই ধরনের অনীহা দেখা গেছে। যুক্তরাষ্ট্রের ঘনিষ্ঠ মিত্র জাপান ও অস্ট্রেলিয়াও সেখানে জাহাজ পাঠাতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে। কেবল দক্ষিণ কোরিয়া জানিয়েছে, তারা বিষয়টি বিবেচনা করে দেখবে।

সূত্র: আলজাজিরা।