সারা দেশে ঈদের আনন্দঘন পরিবেশের মধ্যেই বাজারে বেড়েছে মাংসের চাহিদা, আর সেই সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বেড়েছে দামও। রাজধানীর নিত্যপণ্যের বাজার ঘুরে দেখা গেছে, ঈদের দিনেও গরুর মাংসের কেজি বিক্রি হচ্ছে ৮০০ থেকে ৮৫০ টাকার মধ্যে।
শনিবার (২১ মার্চ) বিভিন্ন মাংসের দোকান পরিদর্শনে দেখা যায়, অধিকাংশ দোকানেই গরুর মাংস ৮৫০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। কোথাও কোথাও ৮০০ বা ৭৮০ টাকায় বিক্রি হলেও, সামগ্রিকভাবে আগের তুলনায় দাম বেড়েছে বলেই মনে করছেন ক্রেতারা। ঈদকে কেন্দ্র করে চাহিদা বৃদ্ধিই এর প্রধান কারণ বলে জানিয়েছেন বিক্রেতারা।
অন্যদিকে, ব্রয়লার মুরগির দামও বেড়েছে। বর্তমানে প্রতি কেজি ব্রয়লার মুরগি বিক্রি হচ্ছে ২৩০ টাকায়, যা সপ্তাহের ব্যবধানে প্রায় ১০ টাকা বেশি। সোনালী মুরগির দামও ঊর্ধ্বমুখী—প্রতি কেজি ৩৮০ থেকে ৪২০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে, যা আগের তুলনায় ২০ থেকে ৫০ টাকা পর্যন্ত বেশি।
ঈদের দিন খোলা থাকা মুদি দোকানগুলোতেও দেখা গেছে ভিন্ন চিত্র। কোমল পানীয়, আইসক্রিম, চকলেট ও চিপসের চাহিদা বেড়েছে উল্লেখযোগ্যভাবে। দোকানিদের ভাষ্য, শিশু-কিশোরদের হাতে ঈদের টাকা থাকায় এসব পণ্যের বিক্রি বেশি হচ্ছে। তবে বৃষ্টির কারণে ক্রেতার সংখ্যা কিছুটা কম ছিল বলেও জানান তারা।
এদিকে, অনেকে আগেভাগে বাজার করতে না পারায় ঈদের দিনেই সেমাই, চাল, তেল ও মসলা কিনতে দেখা গেছে। ব্যবসায়ীরা জানান, সেমাই ও দুধের দাম মোটামুটি স্থিতিশীল থাকলেও কিছু এলাকায় সয়াবিন তেলের সংকট দেখা দিয়েছে। পাশাপাশি মসলা ও সুগন্ধি চালের দাম কিছুটা বেড়েছে, যা ভোক্তাদের ওপর অতিরিক্ত চাপ তৈরি করছে।
সব মিলিয়ে, ঈদের উৎসবের আনন্দের মাঝেও নিত্যপণ্যের বাড়তি দাম নিয়ে কিছুটা চাপ অনুভব করছেন সাধারণ ক্রেতারা।
