রংপুরে আয়োজিত এক গুরুত্বপূর্ণ উন্নয়ন সভা শেষ পর্যন্ত আলোচনার কেন্দ্রে এসেছে ভিন্ন এক কারণে। দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু (Asadul Habib Dulu)-কে উদ্দেশ্য করে জেলা প্রশাসক (ডিসি) এনামুল আহসানের ঘনঘন ‘স্যার’ সম্বোধন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার জন্ম দিয়েছে।
মঙ্গলবার (২৪ মার্চ) বিকেলে জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে ‘সমতাভিত্তিক আঞ্চলিক উন্নয়ন এবং শিল্পায়ন সম্ভাবনা’ শীর্ষক এক আলোচনা সভায় এই ঘটনা ঘটে। জানা গেছে, মাত্র দুই মিনিটের সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে জেলা প্রশাসক এনামুল আহসান মন্ত্রীকে ৫০ বারেরও বেশি ‘স্যার’ বলে সম্বোধন করেছেন।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায়, জেলা প্রশাসক এনামুল আহসান (Enamul Ahsan) রংপুরের বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্প এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার প্রস্তাবনা মন্ত্রীর সামনে উপস্থাপন করছেন। কিন্তু বক্তব্যের প্রায় প্রতিটি বাক্যেই একাধিকবার ‘স্যার’ শব্দটি উচ্চারণ করতে দেখা যায় তাকে, যা দ্রুতই দর্শকদের দৃষ্টি কাড়ে।
সভায় উপস্থিত একাধিক সূত্র জানিয়েছে, এত স্বল্প সময়ের মধ্যে একই সম্বোধনের পুনরাবৃত্তি অনেকের মধ্যেই বিরক্তির জন্ম দেয়। কেউ কেউ এটিকে অপ্রয়োজনীয় অতিরঞ্জন বলেও মন্তব্য করেছেন।
ভিডিওটি প্রকাশ্যে আসার পর নেটিজেনদের মধ্যে বিষয়টি নিয়ে শুরু হয়েছে মিশ্র প্রতিক্রিয়া। একদিকে হাস্যরসাত্মক মন্তব্য, অন্যদিকে তীব্র সমালোচনা—দুই-ই দেখা যাচ্ছে সামাজিক মাধ্যমে। অনেকেই প্রশ্ন তুলছেন, একজন উচ্চপদস্থ প্রশাসনিক কর্মকর্তার এমন আচরণ পেশাদারিত্বের সঙ্গে কতটা সামঞ্জস্যপূর্ণ।
শহিদুল ইসলাম (Shahidul Islam)-এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ড. রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর (Dr. Rashed Al Mahmud Titumir)। এছাড়া নীলফামারী ও গাইবান্ধা জেলার সংসদ সদস্যরা, রংপুর রেঞ্জের ডিআইজি, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, ব্যবসায়ী প্রতিনিধি এবং সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরাও সভায় অংশ নেন।
আঞ্চলিক বৈষম্য দূরীকরণ এবং শিল্পায়নের সম্ভাবনা নিয়ে আয়োজিত এই সভাটি মূলত উন্নয়ন ভাবনার একটি গুরুত্বপূর্ণ প্ল্যাটফর্ম হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু শেষ পর্যন্ত উন্নয়ন প্রস্তাবনার চেয়ে জেলা প্রশাসকের অতিরিক্ত সম্বোধন রীতিই আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এসেছে।
এমন পরিস্থিতিতে প্রশ্ন উঠেছে—রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে থাকা একজন কর্মকর্তার ভাষা ও আচরণ কতটা সংযত ও পেশাদার হওয়া উচিত, এবং কোথায় টানা উচিত সেই সীমারেখা।
