ইরানের সঙ্গে আকস্মিক যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব দিয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প (Donald Trump) আসলে সময় নিচ্ছেন—এমনটাই ধারণা করছেন আন্তর্জাতিক সামরিক বিশ্লেষকরা। তাদের মতে, ঘোষিত ‘ডেডলাইন’-এর আগে মধ্যপ্রাচ্যে অতিরিক্ত সেনা ও যুদ্ধজাহাজ মোতায়েনের সুযোগ তৈরি করতেই এই কৌশল নিয়েছে ওয়াশিংটন।
গত ২৩ মার্চ থেকে আকাশপথে হামলা সাময়িকভাবে স্থগিত রাখা হলেও সমুদ্র ও আকাশপথে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বহর দ্রুত এগিয়ে যাচ্ছে। বর্তমানে মধ্যপ্রাচ্যে প্রায় ৫০ হাজার মার্কিন সেনা মোতায়েন রয়েছে। এর সঙ্গে যুক্ত হতে যাচ্ছে আরও প্রায় ৫ হাজার সদস্যের দুটি মেরিন ইউনিট।
এই যুদ্ধপ্রস্তুতির মধ্যেই ট্রাম্প সাংবাদিকদের বলেন, শুক্রবারের মধ্যে কোনো চুক্তি না হলে ‘তৃপ্তি’ না হওয়া পর্যন্ত বোমাবর্ষণ চালানো হবে।
ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম ‘দ্য টেলিগ্রাফ’-এর প্রতিবেদন বলছে, কেবল আকাশ হামলায় সীমাবদ্ধ থাকতে চায় না যুক্তরাষ্ট্র। পেন্টাগন (Pentagon)-এর পরিকল্পনায় রয়েছে আরও আক্রমণাত্মক পদক্ষেপ—যার মধ্যে ইরানের অর্থনীতির কেন্দ্রবিন্দু খরগ দ্বীপ দখল, উচ্চমাত্রার সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মজুদ ধ্বংস এবং কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ কিশ, কেশম ও হরমুজ দ্বীপপুঞ্জে হামলার প্রস্তুতি অন্তর্ভুক্ত।
অন্যদিকে, ‘ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল’-এর তথ্যমতে, প্রায় ২২০০ মেরিন সেনা নিয়ে ইউএসএস ত্রিপোলি (USS Tripoli) পারস্য উপসাগরের দিকে অগ্রসর হচ্ছে। পাশাপাশি ক্যালিফোর্নিয়া থেকে রওনা হওয়া ইউএসএস বক্সার (USS Boxer) আগামী মাসে এই অঞ্চলে যোগ দিতে পারে। এতে প্রথমবারের মতো ইরানের ভূখণ্ডে পূর্ণমাত্রার স্থল অভিযান চালানোর সক্ষমতা অর্জন করতে পারে যুক্তরাষ্ট্র।
তবে ওয়াশিংটনের এই প্রস্তাব সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছে তেহরান। ইরান জানিয়েছে, অতীতে দুইবার ট্রাম্প প্রশাসনের প্রতিশ্রুতিতে প্রতারিত হওয়ার অভিজ্ঞতা রয়েছে তাদের। তাই এবার আর কোনো আলোচনায় সহজে আগ্রহ দেখাচ্ছে না তারা।
ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি (Abbas Araghchi) স্পষ্ট করে বলেছেন, হরমুজ প্রণালী পুনরায় চালু করার আগে যুক্তরাষ্ট্রকে সব নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করতে হবে এবং হামলার ক্ষতিপূরণ দিতে হবে।
এদিকে ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি) (IRGC) জানিয়েছে, তারা হরমুজ প্রণালী দিয়ে চলাচলকারী প্রতিটি জাহাজ থেকে শুল্ক আদায়ের পরিকল্পনা করছে—যা কার্যত আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে নতুন চাপ সৃষ্টি করতে পারে।
মধ্যস্থতাকারীদের মতে, বর্তমান পরিস্থিতিতে ইরান নিজেদের অবস্থান আরও শক্তিশালী না করে কোনোভাবেই আপস করবে না।
অন্যদিকে, পেন্টাগন নিজেও সতর্ক করেছে—ইরানের খরগ দ্বীপ বা অন্য কোনো ভূখণ্ডে স্থল অভিযান অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে। কারণ, দ্বীপের রানওয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় হেলিকপ্টার বা এফ-৩৫বি জেটের মাধ্যমে সেনা নামাতে হবে।
সবচেয়ে বড় আশঙ্কা হলো, ইরানের হাতে এখনও উল্লেখযোগ্য পরিমাণ ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন মজুদ রয়েছে। ফলে সম্ভাব্য স্থল অভিযানে যুক্তরাষ্ট্রের বড় ধরনের প্রা’\ণহা’\নি ঘটার ঝুঁকি উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।


