জ্বালানি তেলের তীব্র সংকটে স্বাভাবিক ছন্দ হারিয়েছে সড়ক যোগাযোগ। সেই প্রভাব এবার পড়ল একেবারে ব্যক্তিগত জীবনের গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তেও। নির্ধারিত সময়ে বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করতে গিয়ে চরম ভোগান্তির মুখে পড়লেন খাগড়াছড়ির এক যুবক।
খাগড়াছড়ির দীঘিনালা উপজেলার মধ্য বেতছড়ি এলাকার বাসিন্দা মো. শাহিন আলমের বিয়ের দিন আগে থেকেই ঠিক ছিল। শুক্রবার (২৭ মার্চ) তার বিয়ে হওয়ার কথা ছিল খাগড়াছড়ি জেলা সদরের উত্তর গঞ্জপাড়া এলাকার মদিনা আক্তারের সঙ্গে। সব প্রস্তুতি শেষ—শুধু বাকি ছিল বরযাত্রার আনুষ্ঠানিক যাত্রা।
কিন্তু বাস্তবতা যেন অন্য গল্প লিখল। নির্ধারিত সময়ে বরযাত্রীরা যখন গাড়ির খোঁজে বের হন, তখনই ধরা পড়ে জ্বালানি সংকটের কঠিন চিত্র। আশপাশে কোথাও কোনো গাড়ি মিলছিল না। একের পর এক চেষ্টা করেও ব্যর্থ হন তারা।
অবশেষে সময় নষ্ট না করে বিকল্প পথই বেছে নিতে হয়। বাধ্য হয়ে ব্যাটারিচালিত কয়েকটি ইজিবাইক এবং কিছু মোটরসাইকেল জোগাড় করা হয়। প্রায় ১৫ জন বরযাত্রী নিয়ে সেই ইজিবাইকেই বিয়ের উদ্দেশ্যে রওনা হন শাহিন।
দীঘিনালা থেকে খাগড়াছড়ি জেলা সদরের দূরত্ব প্রায় ২৬ কিলোমিটার। পুরো পথটাই উঁচু-নিচু পাহাড়ি এলাকায় ঘেরা, যেখানে যাত্রা এমনিতেই সহজ নয়। সেই কঠিন পথ পাড়ি দিয়েই ব্যতিক্রমী এই বরযাত্রা এগিয়ে যায় গন্তব্যের দিকে।
একদিকে জ্বালানি সংকট, অন্যদিকে জীবনের গুরুত্বপূর্ণ একটি দিন—এই দুইয়ের টানাপোড়েনে জন্ম নিল এক ভিন্নধর্মী বাস্তব অভিজ্ঞতা, যা হয়তো দীর্ঘদিন মনে রাখবেন শাহিন ও তার সঙ্গীরা।


