২০১৩ সালের ভয়াবহ রানা প্লাজার ট্র্যাজেডি থেকে অলৌকিকভাবে বেঁচে ফিরেছিলেন দিনাজপুরের পার্বতীপুর উপজেলার বাসিন্দা নাসিমা বেগম। কিন্তু দীর্ঘ লড়াইয়ের সেই জীবন অবশেষে থেমে গেল রাজবাড়ীর দৌলতদিয়া ফেরিঘাটের মর্মান্তিক দুর্ঘটনায়। তার সঙ্গে আরও দুই স্বজনের মৃ’\ত্যুতে গ্রামে নেমে এসেছে শোকের ভারী ছায়া।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, পার্বতীপুরের ৪ নম্বর পলাশবাড়ী ইউনিয়নের মধ্য আটরাই গ্রামের মৃত নুর ইসলামের স্ত্রী নাসিমা জীবিকার সন্ধানে গত ১৯ ফেব্রুয়ারি ঢাকার সাভারে তার ভাগনি আজমিরা খাতুনের বাড়িতে যান। প্রায় এক মাস চেষ্টার পরও কোনো কাজের ব্যবস্থা করতে পারেননি তিনি। পরে ঈদকে কেন্দ্র করে আজমিরার শ্বশুরবাড়ি ফরিদপুরে চলে যান।
ঈদের ছুটি শেষে গত বুধবার বিকালে নাসিমা, তার অন্তঃসত্ত্বা ভাগনি আজমিরা খাতুন, ভাগনির স্বামী আব্দুল আজিজ আজাদ এবং চার বছরের শিশু আব্দুর রহমান ঢাকার উদ্দেশে বাসে রওনা দেন। কিন্তু পথেই ঘটে যায় মর্মান্তিক ঘটনা। রাজবাড়ীর দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া ফেরিঘাট এলাকায় পৌঁছালে বাসটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে পদ্মা নদীতে পড়ে যায়। মুহূর্তেই ডুবে যান সবাই।
কিছু সময় পর আব্দুল আজিজকে জীবিত উদ্ধার করা সম্ভব হলেও প্রায় ছয় ঘণ্টা পর রাত সাড়ে ১১টার দিকে নাসিমাসহ বাকি তিনজনের লা’\শ উদ্ধার করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। এখানেই শেষ হয়নি দুর্ভাগ্য। স্বজনরা যখন অ্যাম্বুলেন্সে করে লা’\শগুলো বাড়িতে নিয়ে ফিরছিলেন, তখন কুষ্টিয়া এলাকায় লা’\শবাহী গাড়িটিও আরেকটি দুর্ঘটনায় পড়ে। যদিও এতে বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি হয়নি বলে জানিয়েছেন নাসিমার চাচাতো ভাই জুলফিকার আলী ভুট্টু।
শুক্রবার জুমার নামাজের পর পারিবারিক কবরস্থানে তাদের দাফন সম্পন্ন করা হয়।
স্বজনদের ভাষ্য অনুযায়ী, রানা প্লাজা ধসের সময় নাসিমা সেখানে কর্মরত ছিলেন। ভয়াবহ সেই ধ্বংসস্তূপের নিচে টানা তিন দিন আটকে থাকার পর তিনি জীবিত উদ্ধার হন—যা ছিল প্রায় অলৌকিক এক ঘটনা। এরপর দীর্ঘ সময় গ্রামেই কাটিয়েছিলেন তিনি। কিন্তু স্বামীর মৃ’\ত্যুর পর জীবিকার তাগিদে আবার ঢাকায় যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। সেই সিদ্ধান্তই শেষ পর্যন্ত তার জীবনের শেষ যাত্রা হয়ে দাঁড়ায়।
পার্বতীপুর মডেল থানার ওসি আ. ওয়াদুদ ঘটনাটি নিশ্চিত করে জানান, খবর পাওয়ার পর তিনি নিজে গিয়ে পরিবারের খোঁজখবর নিয়েছেন এবং শোকাহত স্বজনদের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন।
এদিকে পার্বতীপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাদ্দাম হোসেন নিহত পরিবারের পাশে দাঁড়িয়ে জেলা প্রশাসকের পক্ষ থেকে ২৫ হাজার টাকা আর্থিক সহায়তা প্রদান করেছেন।

