“গর্ভমেন্ট আমাদের”—কুষ্টিয়ায় রুমীর বক্তব্যে তীব্র আলোচনা-সমালোচনা

কুষ্টিয়া-৪ আসনের বিএনপির পরাজিত প্রার্থী ও সাবেক এমপি সৈয়দ মেহেদী আহমেদ রুমী (Syed Mehedi Ahmed Rumi)-এর একটি বক্তব্য ঘিরে জেলায় তুমুল আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। বিশেষ করে জেলা প্রশাসক বদলি নিয়ে তার প্রকাশ্য মন্তব্য রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।

গত বৃহস্পতিবার সকাল ১১টায় কুষ্টিয়া জেলা শিল্পকলা একাডেমি মিলনায়তনে স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে রুমী বলেন, “আগের জেলা প্রশাসককে আমরা ইচ্ছা করে বদলি করে দিয়েছি। কারণ, গর্ভমেন্ট আমাদের। তিনি এমন কাজ করবেন বুঝতে পারিনি, বুঝতে পারলে আগেই ব্যবস্থা নিতাম।”

তার এই মন্তব্য মুহূর্তেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে এবং দ্রুতই তা নিয়ে জনমনে নানা প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়। কেউ এটিকে রাজনৈতিক বাস্তবতার নগ্ন প্রকাশ হিসেবে দেখছেন, আবার কেউ বলছেন—এ ধরনের বক্তব্য প্রশাসনের নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তোলে।

বক্তব্যের এক পর্যায়ে রুমী নির্বাচনের ফল নিয়েও অসন্তোষ প্রকাশ করেন। তিনি দাবি করেন, সুষ্ঠু নির্বাচন হলে তিনি অন্তত এক লাখ ভোটের ব্যবধানে জয়ী হতেন। কিন্তু প্রশাসনের কিছু ‘গাদ্দার’ এবং নিজ দলের কিছু নেতার ভূমিকার কারণে তিনি প্রায় পাঁচ হাজার ভোটের ব্যবধানে পরাজিত হয়েছেন। তার ভাষ্যমতে, তিনি মোট ১ লাখ ৪০ হাজার ভোট পেয়েছিলেন।

রুমী আরও অভিযোগ করেন, কুষ্টিয়ার তৎকালীন জেলা প্রশাসক ইকবাল হোসেন, কুমারখালী ও খোকসা উপজেলার প্রশাসনের কিছু অংশ তার বিরুদ্ধে কাজ করেছে। এ নিয়ে তিনি হাইকোর্টে মামলা দায়ের করেছেন বলেও জানান এবং আগামী ২৪ জুন শুনানির তারিখ রয়েছে বলে উল্লেখ করেন।

শুক্রবার রাতে নিজের বক্তব্য নিয়ে প্রতিক্রিয়া জানতে চাইলে রুমী স্পষ্ট ভাষায় বলেন, “আমি যা বলেছি, সেটাই সত্য। এতে কে কী মনে করলো, তা আমি বিবেচনা করি না।”

এদিকে জেলা প্রশাসনের আয়োজনে অনুষ্ঠিত ওই সভায় সভাপতিত্ব করেন তৌহিদ-বিন-হাসান (Touhid-bin-Hasan)। অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন জেলা পরিষদের প্রশাসক অধ্যক্ষ সোহরাব উদ্দিন, পুলিশ সুপার জসীম উদ্দীন (Jasim Uddin) এবং বীর মুক্তিযোদ্ধা রফিকুল আলম টুকু (Rafiqul Alam Tuku) সহ অন্যান্যরা।

ঘটনাটি ঘিরে কুষ্টিয়ার রাজনৈতিক অঙ্গনে এখন নানা আলোচনা-সমালোচনা চলছে। অনেকেই বিষয়টিকে স্থানীয় রাজনীতির অন্তর্নিহিত দ্বন্দ্বের প্রকাশ হিসেবে দেখছেন, আবার কেউ প্রশাসন-রাজনীতি সম্পর্কের জটিল বাস্তবতার প্রতিফলন বলেও মনে করছেন।