সদর উপজেলার গাছবাড়িয়া এলাকার বাসিন্দা আব্দুল করিম বেপারী, যিনি বর্তমানে শহরের সরদার কলোনি এলাকায় ভাড়া বাসায় থাকেন—তার সঙ্গে এক ট্রাফিক পুলিশ কর্মকর্তার বিরোধ ঘিরে নতুন করে আলোচনা তৈরি হয়েছে। অভিযুক্ত কর্মকর্তা রফিক, যিনি জেলা ট্রাফিক পুলিশের সার্জেন্ট হিসেবে কর্মরত।
স্থানীয় সূত্র ও ভুক্তভোগীর ভাষ্যমতে, শুক্রবার (২৭ মার্চ) রাত আনুমানিক আটটার দিকে জেলা প্রশাসকের বাসভবনের সামনে আব্দুল করিমের কাছ থেকে আটটি ডাব কেনেন সার্জেন্ট রফিক। সে সময় তার সঙ্গে নারী সদস্য ও কয়েকজন বন্ধু ছিলেন। তারা সেখানে দাঁড়িয়েই ডাবগুলো খান।
আব্দুল করিমের দাবি, আটটি ডাবের মোট মূল্য ছিল ১ হাজার ২০০ টাকা। তবে সার্জেন্ট রফিক তাকে দেন মাত্র ৫০০ টাকা। বাকি ৭০০ টাকা চাইলে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।
ভুক্তভোগীর অভিযোগ, ‘বাকি টাকা চাইতেই তিনি ক্ষিপ্ত হয়ে আমাকে ভয়ভীতি দেখান। একপর্যায়ে “চোখ উপড়ে ফেলার” হুমকিও দেন।’
ঘটনাস্থলে উপস্থিত প্রত্যক্ষদর্শী কাওসার মাহমুদ জানান, বিষয়টি জানতে চাইলে সার্জেন্ট তার সঙ্গেও দুর্ব্যবহার করেন। এমনকি ডাব বিক্রেতাকে জোর করে গাড়িতে তোলার চেষ্টা করা হয় বলেও তিনি দাবি করেন। পরে স্থানীয় লোকজন এগিয়ে এলে পরিস্থিতি সামাল দিয়ে সেখান থেকে চলে যান ওই পুলিশ কর্মকর্তা।
পরদিন শনিবার (২৮ মার্চ) সকালে ঘটনাটির একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে বিষয়টি পুলিশ প্রশাসনের নজরে আসে। সকাল ১০টার দিকে ট্রাফিক পরিদর্শক রেদওয়ান আহম্মেদ ভুক্তভোগীকে তার বাসা থেকে পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে নিয়ে যান।
আব্দুল করিম অভিযোগ করেন, সেখানে তাকে টানা ছয় ঘণ্টা জিজ্ঞাসাবাদের নামে আটকে রাখা হয়। এ সময় একটি কম্পিউটারে টাইপ করা কাগজে তার স্বাক্ষরও নেওয়া হয় বলে তিনি দাবি করেন।
বিকালে মুক্ত হওয়ার পর তিনি বলেন, ‘একদিকে আমার কাছ থেকে ডাবের দাম কম দিয়ে হুমকি দেওয়া হলো, অন্যদিকে পরদিন আমাকে ছয় ঘণ্টা আটকে রাখা হলো। আমি এই অন্যায়ের বিচার চাই।’
ঘটনার বিষয়ে জানতে দুপুরে পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে যান কয়েকজন গণমাধ্যমকর্মী। এ সময় তারা ভুক্তভোগীর সঙ্গে কথা বলার চেষ্টা করলে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার জাহাঙ্গীর আলম ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন বলে অভিযোগ ওঠে। সাংবাদিকদের সঙ্গে উচ্চ স্বরে আপত্তিকর ভাষায় কথা বলা এবং ‘সাংবাদিকতা শিখিয়ে দেওয়ার’ হুমকির কথাও উল্লেখ করেছেন উপস্থিতরা।
তবে অভিযুক্ত সার্জেন্ট রফিক সব অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, ‘এ ধরনের কোনো ঘটনা ঘটেনি। আমি কোনো ডাব খাইনি এবং কাউকে হুমকিও দিইনি।’
