মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প (Donald Trump)-এর ঘনিষ্ঠ মিত্র এবং হোয়াইট হাউসের সাবেক কৌশলবিদ স্টিভ ব্যানন (Steve Bannon) এক বিতর্কিত মন্তব্যে জানিয়েছেন, ইরান-ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধে উপসাগরীয় দেশগুলোর রাজপরিবারের সদস্যদের নিজেদের সন্তানদের সম্মুখ সমরে পাঠানো উচিত।
শনিবার (২৯ মার্চ) তার জনপ্রিয় পডকাস্ট ‘ওয়ার রুম’-এ ব্যানন বলেন, ইরানের বিরুদ্ধে যেকোনো স্থল অভিযানের প্রথম সারিতে আরব দেশগুলোর রাজপরিবারের সন্তানদের থাকা উচিত। তিনি উপহাসের সুরে প্রশ্ন তোলেন, রাজপরিবারের কোনো সন্তান কি বিশেষ বাহিনীতে কর্মরত আছে এবং তারা ঠিক কতটা বীরত্ব দেখাতে পারে তা দেখার সময় এসেছে।
ব্যানন কেবল আরব দেশগুলোকেই নয়, বরং ওয়াশিংটনের অন্যান্য মিত্রদের বিরুদ্ধেও যুক্তরাষ্ট্রের সুযোগ নেওয়ার অভিযোগ তুলেছেন। তিনি বলেন, “ইসরায়েলিরা আমাদের সঙ্গে খেলছে, আরবরা খেলছে, এমনকি ইউরোপীয়রাও একই কাজ করছে। কিন্তু শেষ পর্যন্ত মার্কিন সেনারা যুদ্ধের ময়দানে পাঠানো হচ্ছে।”
তিনি এই যুদ্ধকে ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপটের সঙ্গে তুলনা করে উল্লেখ করেন, ২ হাজার ৩০০ বছর আগে মহাবীর আলেকজান্ডারের অভিযানকে পুনরায় ঘটানো হচ্ছে। তিনি বলেন, লোহিত সাগর বা খাগ দ্বীপের মতো জায়গায় কোনো অভিযান হলে তার প্রথম সারিতে সংযুক্ত আরব আমিরাতকে থাকতে হবে এবং দুবাইয়ের তথাকথিত ‘মানি লন্ডারিং’ কার্যক্রম অবিলম্বে বন্ধ করতে হবে।
ব্যাননের এই মন্তব্যের ঠিক একদিন আগে, ফ্লোরিডায় সৌদি-সমর্থিত এক বিনিয়োগ সম্মেলনে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প নিজেই সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান-কে (MBS) নিয়ে উপহাস করেছেন। ট্রাম্প বলেন, এক বছর আগে সৌদি আরব ‘মৃত দেশ’ ছিল, এখন তা বিশ্বের অন্যতম আলোচিত দেশ। তিনি আক্রমণাত্মক ভাষায় বলেন, যুবরাজ ভাবেননি যে ট্রাম্পের প্রতি এত নমনীয় হতে হবে, কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতি সম্পূর্ণ ভিন্ন।
একদিকে যখন যুদ্ধের দামামা বাজছে এবং শীর্ষ নেতাদের এমন আক্রমণাত্মক মন্তব্য শোনা যাচ্ছে, অন্যদিকে কূটনৈতিক প্রচেষ্টা তুঙ্গে। পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরীফ (Shehbaz Sharif) সংঘাত নিরসনে একটি ‘অর্থপূর্ণ’ আলোচনার প্রস্তাব দিয়েছেন। এর অংশ হিসেবে ইসলামাবাদে সৌদি আরব, মিশর ও তুরস্কের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা বৈঠকে মিলিত হয়েছেন।
বৈঠকের মূল লক্ষ্য হলো উত্তেজনা প্রশমন এবং যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সম্ভাব্য আলোচনার পথ খুঁজে বের করা। তবে ট্রাম্পের প্রভাবশালী সহযোগী স্টিভ ব্যাননের এমন মন্তব্য এবং আরব নেতাদের প্রতি অসম্মানজনক আচরণ শান্তি প্রক্রিয়ায় কতটা প্রভাব ফেলবে, তা নিয়ে নতুন করে সংশয় তৈরি হয়েছে।


