রাশিয়া থেকে ডিজেল আমদানিতে যুক্তরাষ্ট্রের ‘স্যাংশন ওয়েভার’ চেয়েছে বাংলাদেশ

রাশিয়া থেকে ডিজেল আমদানির ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রের ‘স্যাংশন ওয়েভার’ চেয়েছে বাংলাদেশ—এ তথ্য জানিয়েছেন জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের যুগ্মসচিব (অপারেশন অনুবিভাগ) মনির হোসেন চৌধুরী (Monir Hossain Chowdhury)। তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের পরামর্শেই এ বিষয়ে রাশিয়াকে চিঠি দেওয়া হয়েছে।

সোমবার (৩০ মার্চ) সচিবালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি জানান, দুই মাসের জন্য অথবা ৬ লাখ মেট্রিক টন জ্বালানি তেল আমদানির লক্ষ্যে এই স্যাংশন ওয়েভার চাওয়া হয়েছে।

ঈদ উপলক্ষে জ্বালানি সরবরাহ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, চলতি মার্চ মাসে ২০২৫ সালের মার্চের তুলনায় ৪০ শতাংশ বেশি জ্বালানি সরবরাহ করা হয়েছে। সাপ্লাই চেইনে কোনো সমস্যা নেই বলেও দাবি করেন তিনি।

যুগ্মসচিব আরও বলেন, মন্ত্রণালয় যথাযথ সরবরাহ নিশ্চিত করেছে। তবুও যে কৃত্রিম সংকটের কথা বলা হচ্ছে, তার যৌক্তিকতা খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। তিনি জানান, সারা দেশে তেল মজুত করার প্রবণতা দেখা গেছে এবং এ মাসে ২ লাখ ৮ হাজার ৬৫০ মেট্রিক টন জ্বালানি তেল উদ্ধার করা হয়েছে।

ডিজেল সরবরাহ পরিস্থিতি ব্যাখ্যা করে তিনি বলেন, ৩০ মার্চ পর্যন্ত মজুত রয়েছে ১ লাখ ৩৩ হাজার মেট্রিক টন ডিজেল। এছাড়া ৩০ মার্চ ও ৩ এপ্রিল দুটি কার্গো থেকে আরও ৫৪ হাজার ৬০০ মেট্রিক টন ডিজেল আসছে। সব মিলিয়ে এপ্রিল মাসে প্রায় ১ লাখ ৫০ হাজার মেট্রিক টন ডিজেল যোগ হবে। দেশের মোট জ্বালানি চাহিদার ৬৩ শতাংশই ডিজেল, এবং এ ক্ষেত্রে কোনো ঘাটতি নেই।

ভারত থেকে জ্বালানি আমদানির বিষয়েও তিনি জানান, জানুয়ারি থেকে জুন পর্যন্ত ৬০ হাজার মেট্রিক টন ডিজেল পাওয়ার কথা রয়েছে, যার মধ্যে এখন পর্যন্ত ২২ হাজার মেট্রিক টন সরবরাহ পাওয়া গেছে। পাশাপাশি অন্যান্য বিকল্প উৎস থেকেও জ্বালানি আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

জ্বালানি ব্যবস্থাপনায় আধুনিকীকরণের অংশ হিসেবে ফুয়েল কার্ড চালুর পরিকল্পনার কথাও জানান তিনি। এ লক্ষ্যে একটি অ্যাপ তৈরির কাজ চলছে এবং প্রাথমিকভাবে অকটেন ও পেট্রলচালিত যানবাহনের জন্য এই কার্ড চালুর চিন্তা করা হচ্ছে।

অকটেন সংকট প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বর্তমানে যে সংকটের কথা বলা হচ্ছে, তা মূলত মনস্তাত্ত্বিক—বাস্তবে এর কোনো ঘাটতি নেই।