দিল্লিতে কঠোর নিরাপত্তায় শেখ হাসিনা, দেখা-সাক্ষাৎ ও যোগাযোগে নজিরবিহীন নিয়ন্ত্রণ

বাংলাদেশের ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা (Sheikh Hasina) বর্তমানে ভারতের রাজধানী দিল্লি (Delhi)-তে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থার মধ্যে অবস্থান করছেন। তবে নিরাপত্তার এই বলয়ের মধ্যে সবচেয়ে বেশি নিয়ন্ত্রণ আরোপ করা হয়েছে তার সঙ্গে দেখা-সাক্ষাৎ ও যোগাযোগ ব্যবস্থার ওপর—যা ঘিরে তৈরি হয়েছে নানা আলোচনা।

সূত্রগুলোর তথ্য অনুযায়ী, তার সঙ্গে সরাসরি সাক্ষাতের সুযোগ অত্যন্ত সীমিত রাখা হয়েছে। প্রতি দুই সপ্তাহে সর্বোচ্চ সাতজন নেতা-কর্মীকে সাক্ষাতের অনুমতি দেওয়া হয়। তবে এই অনুমতি পাওয়া মোটেও সহজ নয়। আগ্রহী ব্যক্তিকে অন্তত এক মাস আগে নিজের বিস্তারিত তথ্য, জীবনবৃত্তান্তসহ প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা দিতে হয়। এরপর সংশ্লিষ্ট নিরাপত্তা সংস্থার কঠোর যাচাই-বাছাই শেষে এবং শেখ হাসিনার ব্যক্তিগত অনুমোদনের ভিত্তিতে সাক্ষাতের সুযোগ দেওয়া হয়।

সাক্ষাতের দিনও প্রক্রিয়াটি অত্যন্ত নিয়ন্ত্রিত। একাধিক ধাপে নিরাপত্তা তল্লাশির মধ্য দিয়ে প্রবেশ করতে হয়। ব্যক্তিগত সব ধরনের ডিভাইস—বিশেষ করে মোবাইল ফোন—প্রথম ধাপেই জমা রাখতে হয়। ফলে ভেতরে প্রবেশের পর কোনো ধরনের তাৎক্ষণিক যোগাযোগের সুযোগ থাকে না।

শুধু সরাসরি সাক্ষাৎ নয়, ফোনালাপের ক্ষেত্রেও রয়েছে কঠোর বিধিনিষেধ। জানা গেছে, শেখ হাসিনা একটি বিদেশি নম্বর ব্যবহার করে হোয়াটসঅ্যাপের মাধ্যমে যোগাযোগ করেন এবং ভিপিএন ব্যবহার করে নিজের অবস্থান গোপন রাখেন। এই ব্যবস্থার কারণে তার সঙ্গে নিয়মিত বা সহজ যোগাযোগ কার্যত অসম্ভব হয়ে পড়েছে।

একজন সাক্ষাৎ করে আসা প্রবাসী নেতা জানান, পুরো যোগাযোগ প্রক্রিয়াটি এমনভাবে নিয়ন্ত্রিত যে, হঠাৎ করে যোগাযোগ করা বা সরাসরি সাক্ষাৎ পাওয়া প্রায় অসম্ভব। নির্ধারিত সময়সূচি ও অনুমোদিত তালিকার বাইরে কোনো ধরনের যোগাযোগের সুযোগ নেই।

এই সীমিত সাক্ষাৎ এবং নিয়ন্ত্রিত ফোনালাপের ফলে দলের অভ্যন্তরীণ সমন্বয়ও কঠিন হয়ে উঠছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবুও নির্ধারিত প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে সীমিত পরিসরে যোগাযোগ বজায় রাখার চেষ্টা চলছে।