চীনের ছায়ায় জাপানের ক্ষেপণাস্ত্র মোতায়েন, প্রতিরক্ষা নীতিতে বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত

চীনের নিকটবর্তী দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র মোতায়েন করেছে জাপান (Japan)। মঙ্গলবার দেশটির প্রতিরক্ষা মন্ত্রী এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে চীন (China)-এর সঙ্গে সম্পর্ক তলানিতে পৌঁছানোর প্রেক্ষাপটে এই পদক্ষেপকে তাৎপর্যপূর্ণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

ক্ষেপণাস্ত্রগুলো দক্ষিণাঞ্চলীয় কিউশু অঞ্চলের কুমামোতোতে স্থাপন করা হয়েছে। পূর্ব চীন সাগরে চীনের ক্রমবর্ধমান নৌ তৎপরতার জবাবে টোকিও তাদের সামরিক সক্ষমতা জোরদার করছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

জাপানের প্রতিরক্ষা মন্ত্রী শিনজিরো কোইজুমি (Shinjiro Koizumi) বলেন, এই প্রতিরক্ষা সক্ষমতা সম্ভাব্য আগ্রাসনের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে সহায়তা করবে এবং একই সঙ্গে সেনাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করবে। তার ভাষায়, দেশের প্রতিরোধ ও জবাব দেওয়ার সক্ষমতা বাড়াতে এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ।

ভূমি থেকে জাহাজে নিক্ষেপযোগ্য নির্দেশিত ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থার পাল্লা প্রায় এক হাজার কিলোমিটার। ফলে চীনের মূল ভূখণ্ডের কিছু অংশ এখন এর আওতায় চলে এসেছে। উদাহরণ হিসেবে বলা হয়, কুমামোতো থেকে সাংহাইয়ের দূরত্ব প্রায় ৯০০ কিলোমিটার।

এর পাশাপাশি কোইজুমি জানান, ‘হাইপার ভেলোসিটি গ্লাইডিং প্রজেক্টাইল’ নামের উন্নত অস্ত্র শিজুওকা (Shizuoka) অঞ্চলে মোতায়েন করা হয়েছে, যা দূরবর্তী দ্বীপগুলোর সুরক্ষার জন্য তৈরি।

দীর্ঘদিন ধরে জাপানের সামরিক নীতি ছিল শুধুমাত্র আত্মরক্ষামূলক। তবে সাম্প্রতিক সময়ে চীন, রাশিয়া ও উত্তর কোরিয়ার সামরিক তৎপরতা বৃদ্ধি পাওয়ায় সেই অবস্থান ধীরে ধীরে বদলাতে শুরু করেছে। ২০২২ সালে পাল্টা আক্রমণ সক্ষমতা সম্পন্ন ক্ষেপণাস্ত্র মোতায়েনের পরিকল্পনা অনুমোদন করে টোকিও।

গত বছরের একটি প্রতিরক্ষা শ্বেতপত্রে বলা হয়, শুধুমাত্র ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার ওপর নির্ভর করলে আধুনিক প্রযুক্তির ক্ষেপণাস্ত্র হুমকি মোকাবিলা করা কঠিন হয়ে উঠবে।

অন্যদিকে, চীনও তার সামরিক শক্তি বাড়িয়ে চলেছে এবং জাপানের সঙ্গে সেনকাকু দ্বীপপুঞ্জ (Senkaku Islands) নিয়ে বিরোধে জড়িয়ে রয়েছে, যা চীনে দিয়াওইউ নামে পরিচিত।

সম্প্রতি তাইওয়ান (Taiwan) ইস্যু ঘিরে উত্তেজনাও দুই দেশের সম্পর্কে নতুন মাত্রা যোগ করেছে। গত নভেম্বরে জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচি (Sanae Takaichi) ইঙ্গিত দেন, তাইওয়ানের ওপর কোনো হামলা হলে জাপান সামরিকভাবে হস্তক্ষেপ করতে পারে।

চীন তাইওয়ানকে নিজেদের ভূখণ্ড হিসেবে বিবেচনা করে এবং প্রয়োজনে শক্তি প্রয়োগের বিষয়টিও অস্বীকার করেনি।

তবে সমালোচকদের আশঙ্কা, ক্ষেপণাস্ত্র মোতায়েনের ফলে সংশ্লিষ্ট অঞ্চলগুলো সম্ভাব্য শত্রু হামলার লক্ষ্যবস্তু হয়ে উঠতে পারে।

চলতি মাসের শুরুতে স্থানীয় গণমাধ্যম জানায়, জাপানের স্থল বাহিনী কোনো পূর্ব সতর্কতা ছাড়াই কুমামোতোতে ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ যন্ত্র নিয়ে আসে। এতে স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়।

এর প্রতিবাদে একটি সামরিক ঘাঁটির সামনে ডজনখানেক মানুষ বিক্ষোভে অংশ নেয়, যা এই সিদ্ধান্ত ঘিরে জনমতের বিভাজনকেই সামনে নিয়ে এসেছে।

সূত্র: বিএসএস (BSS)