বাংলাদেশের সংসদীয় ইতিহাসে এক নতুন দৃষ্টান্ত স্থাপিত হলো। প্রথমবারের মতো সরকারি দলের একজন সদস্যের আনা মুলতবি প্রস্তাব আলোচনার জন্য গ্রহণ করা হয়েছে—যা ৫৩ বছরের সংসদীয় যাত্রায় এক বিরল ঘটনা বলে উল্লেখ করেছেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ (Hafiz Uddin Ahmed)।
বুধবার জাতীয় সংসদ (Jatiya Sangsad)-এর অধিবেশনে প্রস্তাবটি উত্থাপন করেন সংসদ সদস্য জয়নুল আবদিন ফারুক (Zainul Abdin Faruk)। প্রস্তাবটি উত্থাপনের পর স্পিকার তা গ্রহণ করেন এবং আলোচনার জন্য নির্দিষ্ট সময়ও নির্ধারণ করে দেন।
প্রস্তাবের পক্ষে বক্তব্য রাখতে গিয়ে জয়নুল আবদিন ফারুক বলেন, দীর্ঘ আন্দোলন ও ধারাবাহিক রাজনৈতিক প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে ‘জুলাই জাতীয় সনদ ২০২৫’ প্রণীত হয়েছে। তাঁর মতে, এই সনদ দেশের ভবিষ্যৎ পথচলার একটি গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশনা হিসেবে বিবেচিত হওয়া উচিত।
তিনি কার্যপ্রণালী বিধির ৬২ ধারা অনুযায়ী সংসদের কার্যক্রম স্থগিত রেখে এই গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা প্রয়োজন বলে উল্লেখ করেন। তাঁর ভাষায়, শুধু আনুষ্ঠানিক আলোচনা নয়, বরং গভীর ও কার্যকর বিতর্কের মাধ্যমেই এ সনদের তাৎপর্য মূল্যায়ন করা সম্ভব।
তিনি আরও বলেন, সনদটিতে সংবিধান সংশোধনসহ বিভিন্ন আইন প্রণয়ন এবং সংস্কারের প্রস্তাব অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। এসব বিষয় সংসদে বিশদ আলোচনার দাবি রাখে এবং সেগুলোকে গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা প্রয়োজন।
প্রস্তাবটি গ্রহণ করে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বলেন, বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ এবং সংসদের আলোচনার উপযুক্ত। কার্যপ্রণালী বিধির ৬৫(২) ধারা অনুযায়ী তিনি এ প্রস্তাব আলোচনার অনুমতি দেন।
স্পিকার জানান, আগামী ৫ এপ্রিল রবিবার দিনের শেষ কার্যসূচি হিসেবে এ প্রস্তাবের ওপর সর্বোচ্চ দুই ঘণ্টা আলোচনা অনুষ্ঠিত হবে। একইসঙ্গে তিনি স্মরণ করিয়ে দেন, স্বাধীনতার পর এই প্রথম ট্রেজারি বেঞ্চের কোনো সদস্য মুলতবি প্রস্তাব উত্থাপন করলেন এবং তা গ্রহণ করা হলো—যা নিঃসন্দেহে সংসদীয় ইতিহাসে একটি ব্যতিক্রমী মুহূর্ত।
