ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান মার্কিন জনগণের উদ্দেশে লেখা এক খোলা চিঠিতে নিজের দেশের অবস্থান স্পষ্ট করে তুলে ধরেছেন। সেখানে তিনি জোর দিয়ে বলেছেন, আধুনিক ইতিহাসে ইরান কখনো আগ্রাসন, সম্প্রসারণ বা উপনিবেশবাদের পথে হাঁটেনি। বরং দেশটি সবসময় প্রতিরক্ষামূলক অবস্থানে থেকেছে। তার ভাষায়, ইরান কোনো যু’\দ্ধ শুরু করেনি, তবে যখনই আক্র’\মণের মুখে পড়েছে, তখন কঠোর প্রতিরোধ গড়ে তুলেছে।
চিঠিতে পেজেশকিয়ান ইরানকে ‘নিরাপত্তা হুমকি’ হিসেবে তুলে ধরার প্রচেষ্টার তীব্র সমালোচনা করেন। তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক পরিসরে যেভাবে ইরানকে আগ্রাসী শক্তি হিসেবে উপস্থাপন করা হয়, তা বাস্তবতার সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ নয়। তার মতে, এই ধরনের বর্ণনা ইচ্ছাকৃতভাবে তৈরি করা হয়েছে। তিনি আরও উল্লেখ করেন, ইরান মানব ইতিহাসের অন্যতম প্রাচীন এবং ধারাবাহিক সভ্যতার একটি, যার ঐতিহ্য ও রাষ্ট্রিক চরিত্রকে উপেক্ষা করে এমন অভিযোগ আনা হচ্ছে। বিষয়টি উঠে এসেছে আল–জাজিরা (Al Jazeera)-এর প্রতিবেদনে।
পেজেশকিয়ান তার চিঠিতে দাবি করেন, ইরানকে একটি হুমকি হিসেবে তুলে ধরার পেছনে বহিরাগত শক্তিগুলোর সুস্পষ্ট স্বার্থ জড়িত। তার ভাষায়, এটি কেবল রাজনৈতিক বক্তব্য নয়, বরং একটি বৃহত্তর কৌশলের অংশ। তিনি বলেন, ক্ষমতাধর দেশগুলো নিজেদের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক স্বার্থ রক্ষার জন্য ইরানকে ইচ্ছাকৃতভাবে হুমকি হিসেবে চিত্রিত করছে।
এই প্রক্রিয়ার মাধ্যমে তারা আন্তর্জাতিক চাপকে বৈধতা দিতে পারছে, নিজেদের সামরিক আধিপত্য বজায় রাখছে এবং একই সঙ্গে অস্ত্র শিল্পকে টিকিয়ে রাখার সুযোগ পাচ্ছে। পাশাপাশি কৌশলগত বাজারগুলোর ওপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রেও এই বর্ণনাকে ব্যবহার করা হচ্ছে বলে তিনি অভিযোগ করেন।
চিঠির ভাষায় এক ধরনের প্রতিরোধের সুর স্পষ্ট। সেখানে পেজেশকিয়ান বারবার ইঙ্গিত করেছেন, ইরানের অবস্থানকে বিকৃতভাবে উপস্থাপন করা হচ্ছে, যা কেবল একটি দেশের ভাবমূর্তি নয়, বরং আন্তর্জাতিক সম্পর্কের ভারসাম্যকেও প্রভাবিত করছে।


