কুষ্টিয়া-৩ (সদর) আসনের সংসদ সদস্য ও জামায়াতে ইসলামীর নেতা আমির হামজা (Amir Hamza)-কে ঘিরে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে একটি আইনি নোটিশ। অভিযোগ, তিনি প্রকাশ্যে ৫০ কোটি টাকার ঘুষ প্রস্তাবের কথা বললেও এখনো পর্যন্ত সেই প্রস্তাবদাতাদের পরিচয় জনসমক্ষে আনেননি। এই প্রেক্ষিতে তার কাছে জবাব চেয়ে আইনি পদক্ষেপ নিয়েছেন এক ব্যক্তি।
নোটিশদাতা হৃদয় হাসান (Hridoy Hasan), যিনি কুষ্টিয়া সদর উপজেলার সোনাপুর নওয়াপাড়া এলাকার বাসিন্দা এবং জেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক কমিটির সদস্য। তার পক্ষে কুষ্টিয়া আদালতের আইনজীবী আব্দুল মজিদ (Abdul Majid) গত বুধবার নোটিশটি পাঠান।
নোটিশে স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে, নোটিশ পাওয়ার সাত দিনের মধ্যে ঘুষ প্রস্তাবদাতাদের নাম জনসমক্ষে প্রকাশ করতে হবে অথবা তাদের আইনের আওতায় সোপর্দ করতে হবে। অন্যথায় পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলেও উল্লেখ রয়েছে।
হৃদয় হাসান জানান, বুধবার দুপুরের পর আনুষ্ঠানিকভাবে এই নোটিশ পাঠানো হয়েছে। তিনি বলেন, “আমরা স্পষ্টভাবে আহ্বান জানিয়েছি—ঘুষ প্রস্তাবদাতাদের পরিচয় প্রকাশ করতে হবে অথবা তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নিতে হবে। অন্যথায় আমরা পরবর্তী পদক্ষেপ নিতে বাধ্য হব।”
ঘটনার সূত্রপাত গত ২৬ ফেব্রুয়ারি। সেদিন কুষ্টিয়া শহরে একটি ইফতার মাহফিলে বক্তব্য দিতে গিয়ে আমির হামজা দাবি করেন, কুষ্টিয়া মেডিকেল কলেজ (Kushtia Medical College) বন্ধ রাখার জন্য মাত্র তিন দিনে তার কাছে ৫০ কোটিরও বেশি টাকার প্রস্তাব আসে। তিনি বলেন, “শুধু আল্লাহ ছাড়া কেউ জানবে না—এমন প্রস্তাব এসেছে। কিন্তু আমি স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছি, ৫০ কোটি কেন, ১০০ কোটি বা পুরো কুষ্টিয়া লিখে দিলেও আমি আমার অবস্থান থেকে একচুল নড়ব না।”
তিনি আরও বলেন, দায়িত্বে থাকাকালে যেন এক টাকাও বাড়তি না হয়—সেই লক্ষ্যেই তিনি কাজ করতে চান।
এই বক্তব্যের ভিডিও পরদিন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়। অনেকেই প্রশ্ন তোলেন—যদি এমন প্রস্তাব সত্যি হয়ে থাকে, তবে কেন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের নাম প্রকাশ করা হচ্ছে না? বিশেষ করে একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখতে ঘুষের প্রস্তাবের মতো গুরুতর অভিযোগ জনসমক্ষে এনে তা গোপন রাখার যৌক্তিকতা নিয়েও সমালোচনা শুরু হয়।
প্রায় এক মাস পর সেই বিতর্ক নতুন মোড় নেয় এই আইনি নোটিশের মাধ্যমে। নোটিশে উল্লেখ করা হয়েছে, সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়ার পর বিভিন্ন সময় জনসমক্ষে দেয়া বক্তব্যে আমির হামজা দাবি করেছেন—তিনি কুষ্টিয়া মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল বন্ধ রাখার জন্য তিন দিনে ৫০ কোটি টাকার ঘুষ প্রস্তাব পেয়েছেন, কিন্তু তা প্রত্যাখ্যান করেছেন। একই সঙ্গে তিনি বলেছেন, কোনো প্রলোভনেই তার অবস্থান বদলানো সম্ভব নয়।
এখন প্রশ্ন উঠেছে—এই দাবির পেছনে বাস্তবতা কতটা, এবং কেন এখনো পর্যন্ত সংশ্লিষ্টদের পরিচয় প্রকাশ করা হয়নি। সাত দিনের সময়সীমা শেষে বিষয়টি কোন দিকে মোড় নেয়, সেদিকেই নজর এখন সবার।


