জ্বালানি সংকট সামাল দিতে ১৭ লাখ টন তেল আমদানির উদ্যোগ, তিন আন্তর্জাতিক প্রস্তাব অনুমোদনের অপেক্ষায়

দেশে চলমান জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় বড় পরিসরে জ্বালানি তেল আমদানির পথে হাঁটছে সরকার। আন্তর্জাতিক তিনটি দরপত্রের মাধ্যমে মোট ১৭ লাখ মেট্রিক টন বিভিন্ন ধরনের জ্বালানি তেল আমদানির পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। এ সংক্রান্ত প্রস্তাবগুলো আগামী শনিবার অনুষ্ঠিতব্য সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির ভার্চুয়াল সভায় উপস্থাপন করা হবে।

প্রস্তাবনা অনুযায়ী, ডিবিএস ট্রেডিং হাউস এফজেডসিও (DBS Trading House FZCO)-এর কাছ থেকে আন্তর্জাতিক সরাসরি ক্রয় পদ্ধতিতে ১০ লাখ মেট্রিক টন (ইএন ৫৯০-১০ পিপিএম) মানের ডিজেল এবং অতিরিক্ত ১ লাখ মেট্রিক টন অকটেন আমদানির অনুমোদন চাওয়া হবে। এই দুটি জ্বালানি দেশের পরিবহন ও শিল্প খাতে সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।

একই বৈঠকে ম্যাক্সওয়েল ইন্টারন্যাশনাল এসপিসি (Maxwell International SPC)-এর কাছ থেকে আন্তর্জাতিক সরাসরি ক্রয় পদ্ধতিতে আরও ১ লাখ মেট্রিক টন ৫০ পিপিএম সালফার মানের ডিজেল আমদানির প্রস্তাব উপস্থাপন করা হবে। তুলনামূলকভাবে কম সালফারযুক্ত এই জ্বালানি পরিবেশগত দিক থেকেও গুরুত্বপূর্ণ বিবেচিত হচ্ছে।

জ্বালানি মন্ত্রণালয় সূত্র জানিয়েছে, এই ধারাবাহিক আমদানি উদ্যোগের মাধ্যমে জ্বালানি সরবরাহে স্থিতিশীলতা আনার চেষ্টা করা হচ্ছে, যাতে চলমান সংকটের প্রভাব কিছুটা হলেও কমানো যায়।

অন্যদিকে, কাজাখস্তান গ্যাস প্রসেসিং প্ল্যান্ট এলএলপি (Kazakhstan Gas Processing Plant LLP)-এর কাছ থেকেও আন্তর্জাতিক সরাসরি ক্রয় পদ্ধতিতে ৫ লাখ মেট্রিক টন ডিজেল আমদানির আরেকটি প্রস্তাব একই সভায় উপস্থাপন করা হবে। এই প্রস্তাব অনুমোদিত হলে মোট আমদানির পরিমাণ দাঁড়াবে ১৭ লাখ মেট্রিক টনে, যা সামগ্রিক জ্বালানি সরবরাহ পরিস্থিতিতে তাৎপর্যপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে।

এখন সবকিছুই নির্ভর করছে আসন্ন বৈঠকের সিদ্ধান্তের ওপর—এই বড় আমদানি পরিকল্পনা কত দ্রুত বাস্তবায়ন পায় এবং তা বাস্তবে সংকট নিরসনে কতটা কার্যকর হয়, সেটিই দেখার বিষয়।