হরমুজ প্রণালি বন্ধে জ্বালানি সংকট, ৪০ দেশীয় জোট গঠনের উদ্যোগ নিলেন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী স্টারমার

ইরানের কার্যত অবরোধের কারণে হরমুজ প্রণালি বন্ধ থাকায় বিশ্বব্যাপী জ্বালানি সংকট তীব্র আকার ধারণ করেছে। এই পরিস্থিতিতে যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার (Keir Starmer) প্রায় ৪০টি দেশ নিয়ে একটি আন্তর্জাতিক জোট গঠনের উদ্যোগ নিয়েছেন, যার লক্ষ্য প্রণালিটি পুনরায় চালু করা এবং নৌচলাচল নিরাপদ করা।

হরমুজ প্রণালির মাধ্যমে বিশ্বের প্রায় ২০ শতাংশ তেল এবং তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) পরিবহন হয়। কিন্তু ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের ইরানে হামলার পর থেকে তেহরান কার্যত এই জলপথে জাহাজ চলাচল বন্ধ করে দেয়। এর প্রভাবে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ১০০ ডলারের ওপরে চলে গেছে, যা যুদ্ধের আগের তুলনায় প্রায় ৪০ শতাংশ বেশি।

বৈঠকে অংশ নিচ্ছে ফ্রান্স, জার্মানি, ইতালি, নেদারল্যান্ডস, কানাডা, অস্ট্রেলিয়া এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতসহ ৪০টির বেশি দেশ। যুক্তরাজ্যের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইভেট কুপার (Yvette Cooper) বৈঠকের সভাপতিত্ব করছেন। প্রথমদিকে ইউরোপীয় দেশগুলো সরাসরি জড়াতে অনাগ্রহী থাকলেও জ্বালানির দাম বৃদ্ধির কারণে তারা এই উদ্যোগে যোগ দিয়েছে। তবে যুক্তরাষ্ট্র অংশ নিচ্ছে না। ডোনাল্ড ট্রাম্প মন্তব্য করেছেন, হরমুজ প্রণালি পুনরায় চালু করা যুক্তরাষ্ট্রের দায়িত্ব নয়, এবং ইউরোপীয় দেশগুলোকে নিজেদের জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে।

বৈঠকে কূটনৈতিক ও রাজনৈতিক সব ধরনের পদক্ষেপ আলোচনা হবে। মূল বিষয়গুলো হলো:

  • প্রণালিতে নিরাপদ নৌচলাচল নিশ্চিত করা
  • আটকে পড়া জাহাজ ও নাবিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা
  • জ্বালানি ও অন্যান্য পণ্যের সরবরাহ পুনরায় চালু করা
  • যুদ্ধ-পরবর্তী সময়ে সামরিক সমন্বয়ের মাধ্যমে প্রণালিকে নিরাপদ করা, যার মধ্যে মাইন অপসারণ ও তেলবাহী জাহাজের নিরাপত্তা অন্তর্ভুক্ত

যদিও স্টারমার স্বীকার করেছেন, ইরানের সঙ্গে কোনো সমঝোতা ছাড়া জোরপূর্বক প্রণালি খুলে দেওয়া প্রায় অসম্ভব। ইরান বর্তমানে শুধুমাত্র “বন্ধুত্বপূর্ণ” কিছু দেশের জাহাজকে সীমিতভাবে চলাচলের অনুমতি দিচ্ছে এবং প্রণালি ব্যবহারকারী জাহাজ থেকে টোল আদায়ের চেষ্টা করছে।

বিশ্লেষকদের মতে, যুদ্ধশেষের পর এই জোট নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে, তবে এজন্য সদস্য দেশগুলোর নৌবাহিনী পাঠানোর প্রস্তুতি অপরিহার্য। হরমুজ প্রণালি বন্ধ থাকায় এশিয়া ও অন্যান্য অঞ্চলে জ্বালানি রেশনিং শুরু হয়েছে। উদাহরণস্বরূপ, মালয়েশিয়া সরকারি কর্মচারীদের বাসা থেকে কাজ করার নির্দেশ দিয়েছে।

এই উদ্যোগ আন্তর্জাতিক কূটনীতিতে নতুন মাত্রা যোগ করেছে, কিন্তু বাস্তবে প্রণালি খুলতে হলে ইরানের সঙ্গে সমঝোতা এবং বড় শক্তিগুলোর সমন্বয় অপরিহার্য বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

তথ্যসূত্র: আল জাজিরা (Al Jazeera)