ইরানের বেসামরিক অবকাঠামো—বিশেষ করে বিদ্যুৎকেন্দ্র ও পানি বিশুদ্ধকরণ স্থাপনায় যুক্তরাষ্ট্র হামলা চালালে তা সরাসরি যুদ্ধাপরাধ হিসেবে বিবেচিত হবে বলে সতর্ক করেছেন কেনেথ রথ (Kenneth Roth)। বিষয়টি নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে উদ্বেগ বাড়ছে।
হিউম্যান রাইটস ওয়াচ (Human Rights Watch)-এর সাবেক প্রধান এবং বর্তমানে প্রিন্সটন বিশ্ববিদ্যালয় (Princeton University)-এর ভিজিটিং প্রফেসর হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন রথ। তিনি আল জাজিরা (Al Jazeera)-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে স্পষ্ট ভাষায় বলেন, ‘যদি ডোনাল্ড ট্রাম্প (Donald Trump) তার হুমকি অনুযায়ী বিদ্যুৎকেন্দ্র বা ডিস্যালিনেশন প্ল্যান্টে হামলা চালান, তাহলে তা হবে স্পষ্টভাবে যুদ্ধাপরাধ।’
রথের ভাষ্য অনুযায়ী, এ ধরনের হামলার পেছনে কোনো বৈধ সামরিক উদ্দেশ্য খুঁজে পাওয়া কঠিন। বরং এতে বেসামরিক জনগণের ওপর মারাত্মক ও অসামঞ্জস্যপূর্ণ ক্ষতি নেমে আসবে—যা আন্তর্জাতিক মানবাধিকার আইনের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন।
তিনি আন্তর্জাতিক অপরাধ বিচার ব্যবস্থার পূর্ববর্তী উদাহরণও তুলে ধরেন। আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত (International Criminal Court)-এর প্রসঙ্গ উল্লেখ করে তিনি বলেন, ইউক্রেনে অনুরূপ বেসামরিক অবকাঠামোয় হামলার জন্য ইতোমধ্যেই রুশ সামরিক কমান্ডারদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করা হয়েছে।
রথ সতর্ক করে দেন, একই ধরনের পদক্ষেপ ইরানের ক্ষেত্রে নেওয়া হলে সেটিও নিঃসন্দেহে যুদ্ধাপরাধ হিসেবে বিবেচিত হবে। তিনি আরও জানান, ১০০-র বেশি আন্তর্জাতিক আইন বিশেষজ্ঞও একই ধরনের মতামত দিয়েছেন—যা এই ইস্যুতে বৈশ্বিক উদ্বেগের গভীরতাকে তুলে ধরে।


