অনুদানে ‘৭০ শতাংশ ভুয়া’ নির্বাচনের অভিযোগ, এতিমদের মানবিক লালনে জোর মন্ত্রীর

বিগত সরকারের সময়ে বিভিন্ন অনুদান প্রদানের ক্ষেত্রে সুবিধাভোগী নির্বাচন প্রক্রিয়ায় বড় ধরনের অনিয়মের অভিযোগ তুলে সমাজকল্যাণ ও মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রী প্রফেসর ডা. এজেডএম জাহিদ হোসেন (Professor Dr. AZM Zahid Hossain) জানিয়েছেন, প্রায় ৭০ শতাংশ ক্ষেত্রেই ভুয়া তথ্যের ভিত্তিতে সুবিধাভোগী নির্বাচন করা হয়েছিল। তিনি বলেন, এখন সেই ত্রুটিগুলো সংশোধনের কাজ করতে হচ্ছে।

শনিবার দিনাজপুর শিশু একাডেমি মিলনায়তনে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। দিনাজপুর জেলা প্রশাসন ও সমাজসেবা কার্যালয়ের উদ্যোগে বেসরকারি এতিমখানা ও আশ্রমগুলোর মধ্যে ক্যাপিটেশন গ্রান্টের চেক বিতরণ উপলক্ষে এই আয়োজন করা হয়।

অনুষ্ঠানে মন্ত্রী সংশ্লিষ্টদের প্রতি বিশেষ আহ্বান জানিয়ে বলেন, যারা এতিমখানার দায়িত্বে রয়েছেন, তারা যেন শিশুদের নিজের সন্তানের মতো করেই লালন-পালন করেন। এতিম শিশুদের মানসিক ও সামাজিক বিকাশে মানবিক আচরণকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়ার ওপর জোর দেন তিনি।

বক্তব্যে তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (Bangladesh Nationalist Party) তাদের নির্বাচনি ইশতেহারে যে প্রতিশ্রুতিগুলো দিয়েছে, সেগুলো অক্ষরে অক্ষরে বাস্তবায়নের চেষ্টা করছে। “রাষ্ট্র পরিচালনা আবেগ দিয়ে নয়, বরং নিয়ম ও বাস্তবতার ভিত্তিতে পরিচালিত হতে হয়”—এমন মন্তব্যও করেন তিনি।

এতিম শিশুদের ভরণপোষণ, শিক্ষা ও প্রশিক্ষণের মাধ্যমে সমাজের মূলধারায় সম্পৃক্ত করার বিষয়টি সরকারের অগ্রাধিকারের তালিকায় রয়েছে বলে জানান মন্ত্রী। তিনি বলেন, এই লক্ষ্য বাস্তবায়নে সরকার ধারাবাহিকভাবে কাজ করে যাচ্ছে।

মন্ত্রী জাতীয় সনদের প্রসঙ্গ টেনে বলেন, সংসদের দক্ষিণ প্লাজায় বিএনপি যে সনদে স্বাক্ষর করেছে, সেটি একটি জাতীয় দলিল হিসেবে বিবেচিত। দলটি এ সনদকে সম্মান করে এবং তা বাস্তবায়নে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

তিনি আরও দাবি করেন, জনগণ বিএনপির নির্বাচনি ইশতেহারের প্রতি আস্থা রেখেই দলটিকে ক্ষমতায় এনেছে। সেই আস্থার প্রতি সম্মান দেখিয়ে জনগণের সঙ্গে কোনো ধরনের প্রতারণা করা হবে না। “যারা ছলচাতুরীর অভিযোগ তোলে, তাদের অতীতই তাদের জবাব দেয়”—এমন মন্তব্য করে তিনি বলেন, বিএনপি যা বলে, তা-ই করে—এটাই তাদের ইতিহাস।

অনুষ্ঠানের শেষাংশে মন্ত্রী সমাজসেবা অধিদফতরসহ সংশ্লিষ্ট সব পর্যায়ের কর্মকর্তাদের প্রতি নির্দেশনা দেন, যেন তারা নিয়মিতভাবে এতিমখানাগুলো পরিদর্শন করেন। এতিম শিশুদের সঙ্গে কোনো ধরনের দুর্ব্যবহার যেন না ঘটে, সে বিষয়ে কঠোরভাবে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান তিনি। মানবিকতার গুরুত্ব তুলে ধরে তিনি বলেন, মানুষ মানুষের জন্য, জীবন জীবনের জন্য—এই চেতনা থেকেই দায়িত্ব পালন করতে হবে।