মিথ্যা মামলা বন্ধ না হলে কমবে না মামলাজট—অ্যাটর্নি জেনারেলের সতর্কবার্তা

এস এম আশিকুজ্জামান

ঢাকা, ৩০ মার্চ, ২০২৬ (বাসস): দেশের ক্রমবর্ধমান মামলাজট নিরসনে মিথ্যা মামলা দায়েরের প্রবণতা বন্ধ করা জরুরি বলে মন্তব্য করেছেন অ্যাটর্নি জেনারেল ব্যারিস্টার মো: রুহুল কুদ্দুস (কাজল) (Md. Ruhul Quddus Kajal)। দায়িত্ব গ্রহণের পর বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থাকে (বাসস) দেওয়া একান্ত সাক্ষাৎকারে তিনি দেশের বিচারব্যবস্থার বিভিন্ন সংকট এবং সম্ভাব্য সমাধানের দিক তুলে ধরেন।

রাষ্ট্রের প্রধান আইন কর্মকর্তা বলেন, মামলাজটের জন্য কোনো একক কারণকে দায়ী করা যাবে না। একইভাবে একটি মাত্র সমাধান দিয়েও এই সমস্যার পুরোপুরি সমাধান সম্ভব নয়। তিনি মনে করেন, আদালতে মামলার স্তুপ জমার পেছনে একাধিক কারণ কাজ করছে, যার মধ্যে মামলা দায়েরের প্রক্রিয়াগত দুর্বলতা অন্যতম।

মিথ্যা ও হয়রানিমূলক মামলার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আমাদের সমাজে এমন একটি প্রবণতা তৈরি হয়েছে যেখানে প্রকৃত অপরাধীর পাশাপাশি অপ্রাসঙ্গিকভাবে অনেক নিরীহ ব্যক্তিকেও আসামি করা হয়। এতে করে বিচারপ্রক্রিয়া জটিল হয়ে ওঠে। একজন ব্যক্তির বিরুদ্ধে অভিযোগ থাকলেও মামলায় অনেককে জড়িয়ে দেওয়া হয়, ফলে তাদের প্রত্যেকেই ন্যায়বিচারের আশায় আদালতের দ্বারস্থ হন।

তিনি ব্যাখ্যা করেন, এসব ক্ষেত্রে কখনো জামিনের আবেদন, কখনো স্থগিতাদেশ, কখনো সাজা হলে তার বিরুদ্ধে আপিল—এভাবে একটি মামলার একাধিক ধাপ তৈরি হয়। আপিল নিষ্পত্তির পর আবার উচ্চ আদালতে রিভিউ চাওয়ার মতো প্রক্রিয়াও যুক্ত হয়। ফলে একটি মামলা থেকেই অসংখ্য শাখা-প্রশাখা তৈরি হয়ে বিচারব্যবস্থার ওপর বাড়তি চাপ সৃষ্টি করে।

মামলাজট নিরসনের উপায় হিসেবে অ্যাটর্নি জেনারেল বলেন, প্রথমেই মিথ্যা মামলা দায়েরের প্রবণতা বন্ধ করতে হবে। তিনি প্রস্তাব দেন, মিথ্যা মামলার ক্ষেত্রে মামলাকারীর শাস্তি অভিযুক্ত ব্যক্তির চেয়েও বেশি করা যেতে পারে, যাতে মানুষ এই প্রবণতা থেকে সরে আসে।

তিনি আরও বলেন, দেওয়ানি মামলার ক্ষেত্রে বিকল্প বিরোধ নিষ্পত্তি পদ্ধতি জোরদার করা যেতে পারে। একইসঙ্গে সাধারণ ও গুরুতর নয় এমন অপরাধের বিচার গ্রাম আদালতের মাধ্যমে নিষ্পত্তি করলে উচ্চ আদালতের ওপর চাপ কমবে। এতে করে বিচারপ্রক্রিয়া দ্রুততর ও কার্যকর হবে।

অ্যাটর্নি জেনারেল উল্লেখ করেন, বর্তমানে উচ্চ আদালতে এমন বহু মামলা রয়েছে যার কোনো সারবত্তা নেই কিংবা যেগুলোর প্রতি সংশ্লিষ্ট পক্ষের আগ্রহও নেই। তবুও এসব মামলা বিচারব্যবস্থায় অযথা জট সৃষ্টি করছে।

তিনি আরও বলেন, অনেক ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ আদালতের রায় থাকা সত্ত্বেও একই ধরনের বিষয়ে আবার হাইকোর্টে রুল জারি হচ্ছে। পরে তা আপিল বিভাগে গড়াচ্ছে, যা নতুন করে মামলার স্তুপ বাড়াচ্ছে। এ ধরনের প্রবণতা নিরুৎসাহিত করা প্রয়োজন।

তবে ইতিবাচক দিক হিসেবে তিনি জানান, বর্তমান প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বে আপিল বিভাগ সম্প্রতি কয়েক হাজার মামলা নিষ্পত্তি করেছে, যা বিচারব্যবস্থার জন্য একটি আশাব্যঞ্জক দৃষ্টান্ত হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।