পাবনা (Pabna) জেলার ভাঙ্গুড়া উপজেলায় প্রায় তিন কোটি টাকা ব্যয়ে চলমান সড়ক সংস্কারকাজে নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহারের অভিযোগ উঠেছে। বিষয়টি নিয়ে এলজিইডি (LGED)-এর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা সতর্ক করলেও তা আমলে নিচ্ছেন না সংশ্লিষ্ট ঠিকাদার—এমন অভিযোগ স্থানীয়দের।
জানা গেছে, ভাঙ্গুড়া উপজেলার ভেড়ামারা বাজার থেকে পাবনাগামী ৩৫৭৬ মিটার সড়কের সংস্কার কাজ চলছে ২০২৫-২৬ অর্থবছরের আওতায়। এ প্রকল্পের দরপত্র আহ্বান করে উপজেলা প্রকৌশল অফিস। তবে কাজের মান নিয়ে শুরু থেকেই প্রশ্ন উঠছে।
গত শনিবার সরেজমিনে দেখা যায়, ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার পরিদর্শনের পর নিম্নমানের খোয়ার সঙ্গে তুলনামূলক ভালো খোয়া মিশিয়ে ব্যবহার করা হচ্ছে। এতে কাজের মান আরও প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে ওঠে। কাজের স্থানে একজন অফিস সহকারী থাকলেও দায়িত্বপ্রাপ্ত কোনো প্রকৌশলীর উপস্থিতি দেখা যায়নি।
বিশ্বস্ত সূত্রে জানা যায়, উপজেলা প্রকৌশল অফিসে উপ-সহকারী প্রকৌশলীর একাধিক পদ দীর্ঘদিন ধরে শূন্য রয়েছে। ফলে চলমান প্রকল্পগুলো নিয়মিত তদারকি করা সম্ভব হচ্ছে না। এই দুর্বলতার সুযোগ নিয়ে ঠিকাদার নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহার করছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
অভিযোগের বিষয়ে ঠিকাদারের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
একই এলাকার আরেকটি মানবিক গল্পও উঠে এসেছে স্থানীয়দের মুখে মুখে—যেখানে এক ব্যক্তির অদম্য ইচ্ছাশক্তি আলাদা করে দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে।
নিজ গ্রামে ফিরে পাঁচ শতাংশ জমির ওপর একটি পাকা মসজিদ নির্মাণ করেন আব্দুর রহমান। ২০১১ সালে মসজিদ প্রতিষ্ঠার পর থেকেই তিনি সেখানে অবৈতনিক মুয়াজ্জিন হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। ছেলে-নাতি ও গ্রামবাসীদের নিয়ে নিয়মিত নামাজ আদায় করছেন তিনি।
আব্দুর রহমানের ছেলে শফিকুল ইসলাম সাইফুল জানান, ২০০৫ সালে এক দুর্ঘটনায় তার বাবা দৃষ্টিশক্তি হারান। দীর্ঘ পাঁচ বছর চিকিৎসার পরও তার চোখের আলো ফেরানো সম্ভব হয়নি। এরপর ২০১১ সালে তাকে নিয়ে হজে যান। দেশে ফিরে তার বাবার ইচ্ছা অনুযায়ী বাড়ি থেকে প্রায় ২০০ মিটার দূরে মসজিদ নির্মাণ করা হয়।
দৃষ্টিশক্তি হারানোর পরও যেন নামাজ আদায়ে কোনো বাধা না আসে, সে জন্য বাড়ি থেকে মসজিদ পর্যন্ত বাঁশ ও দড়ি দিয়ে একটি পথ তৈরি করা হয়। প্রথমদিকে ছেলে ও নাতিরা তাকে পথ দেখিয়ে নিয়ে যেতেন। পরে হাতে একটি লাঠি দেওয়া হয়, যার সাহায্যে তিনি নিজেই পথ খুঁজে নিয়ে নিয়মিত মসজিদে যাতায়াত করছেন।

