সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা (Sheikh Hasina)-র সময়কার সম্পর্কের ধারা থেকে বেরিয়ে এসে ভারতের সঙ্গে সম্পূর্ণ নতুন এক অধ্যায় শুরু করতে চায় বর্তমান সরকার। পরিবর্তিত আঞ্চলিক বাস্তবতায় দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ককে নতুনভাবে সংজ্ঞায়িত করার ইঙ্গিত মিলেছে সরকারের শীর্ষ পর্যায় থেকে।
সোমবার (৬ এপ্রিল) সকালে সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান (Tarique Rahman)-এর সঙ্গে প্রণয় ভার্মা (Pranay Verma), ভারতীয় হাইকমিশনারের সৌজন্য সাক্ষাৎ শেষে সাংবাদিকদের এ কথা জানান পররাষ্ট্র বিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির (Humayun Kabir)।
বৈঠকে দুই দেশের পারস্পরিক স্বার্থ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয় উঠে এলেও জ্বালানি নিরাপত্তা ছিল আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু। বিশেষ করে ভারত থেকে পাইপলাইনের মাধ্যমে ডিজেল আমদানির বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচিত হয়েছে। উপদেষ্টা জানান, এই উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে জ্বালানি খাতে নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচিত হতে পারে।
হুমায়ুন কবির বলেন, ‘দুই দেশের মধ্যে ইতিবাচক সম্পর্ক বজায় থাকলে অনেক সমস্যার সমাধান সম্ভব। পাইপলাইনে জ্বালানি আমদানির প্রক্রিয়াটি এগিয়ে নিতে আমরা আশাবাদী।’ তার বক্তব্যে স্পষ্ট ছিল, সম্পর্কের নতুন কাঠামো গড়ে তোলার ক্ষেত্রে অর্থনৈতিক সহযোগিতা বড় ভূমিকা রাখবে।
সাবেক আওয়ামী লীগ সরকারের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, ‘শেখ হাসিনার আমলে যে ধরনের সম্পর্ক ছিল, তা আর হবে না। সেই অধ্যায় এখন শেষ।’ এই মন্তব্যে বর্তমান সরকারের কূটনৈতিক অবস্থানের একটি স্পষ্ট বার্তা উঠে আসে—আগের ধারা থেকে সরে এসে নতুন বাস্তবতায় সম্পর্ক পুনর্গঠনের চেষ্টা চলছে।
এদিকে, আসন্ন ‘ইন্ডিয়ান ওশান কনফারেন্স’-এ অংশ নিতে মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) ভারত সফরে যাচ্ছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান ও প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা। সফরকালে ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এবং নিরাপত্তা বিষয়ক মন্ত্রীর সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকের সম্ভাবনা রয়েছে বলে জানা গেছে।
হুমায়ুন কবির জানান, এই সফরে দেশের স্বার্থ সংশ্লিষ্ট গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো অগ্রাধিকার পাবে। বিশেষ করে সীমান্তে নি’\হত হওয়ার ঘটনা বন্ধসহ দীর্ঘদিনের অমীমাংসিত ইস্যুগুলো নিয়ে আলোচনা হবে। সরকারের প্রত্যাশা, নতুন এই কূটনৈতিক উদ্যোগ দুই দেশের সম্পর্ককে আরও ভারসাম্যপূর্ণ ও কার্যকর পর্যায়ে নিয়ে যাবে।


