বিতর্কিত মন্তব্যের অভিযোগে বাংলাদেশের জনপ্রিয় ইসলামী বক্তা শায়খ আহমাদুল্লাহ (Shaykh Ahmadullah)-র ভিসা বাতিল করেছে অস্ট্রেলিয়া (Australia)। এর আগে একই কারণে দেশটির কর্তৃপক্ষ আরেক আলোচিত বক্তা মিজানুর রহমান আজহারী (Mizanur Rahman Azhari)-র ক্ষেত্রেও একই পদক্ষেপ নিয়েছিল।
স্থানীয় সময় রোববার এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। অভিযোগ উঠেছে, ইহুদি সম্প্রদায়কে নিয়ে অবমাননাকর মন্তব্য এবং বিশ্বজুড়ে অস্থিরতার জন্য তাদের দায়ী করার বক্তব্য দিয়েছেন তিনি। বিষয়টি সামনে আসার পর অস্ট্রেলীয় কর্তৃপক্ষ তার বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নেয়।
দেশটির প্রভাবশালী গণমাধ্যম দ্য ডেইলি টেলিগ্রাফের প্রতিবেদনে বলা হয়, সম্প্রতি অস্ট্রেলিয়া সফরে গিয়ে সিডনিতে আয়োজিত একটি অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেওয়ার কথা ছিল শায়খ আহমাদুল্লাহর। কিন্তু তার পূর্বের কিছু ভিডিও বক্তব্য প্রকাশ্যে আসার পরই বিতর্ক শুরু হয়। একটি ভিডিওতে তাকে বলতে শোনা যায়, একজন পণ্ডিতের উদ্ধৃতি দিয়ে তিনি ইহুদিদের নিয়ে আপত্তিকর মন্তব্য করেছেন এবং বিশ্বে অশান্তির জন্য তাদের দায়ী করেছেন।
এ ধরনের বক্তব্যকে অস্ট্রেলিয়ার কর্তৃপক্ষ চরম ইহুদিবিদ্বেষী হিসেবে বিবেচনা করেছে। এরপরই দেশটির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় আনুষ্ঠানিকভাবে তার ভিসা বাতিলের সিদ্ধান্ত জানায়। ফলে বর্তমানে তিনি অস্ট্রেলিয়ার বাইরে অবস্থান করলেও ভবিষ্যতে দেশটিতে প্রবেশের সুযোগ থাকছে না।
শায়খ আহমাদুল্লাহ ‘ইসলামিক প্র্যাকটিস অ্যান্ড দাওয়াহ সার্কেল’-এর আমন্ত্রণে ‘এ লেগাসি অব ফেইথ’ শীর্ষক একটি সফরে অংশ নিতে অস্ট্রেলিয়ায় গিয়েছিলেন। শনিবার সন্ধ্যায় সিডনির পাঞ্চবোলে তার প্রধান বক্তা হিসেবে উপস্থিত থাকার কথা ছিল।
তবে ভিসা জটিলতা ও বিতর্কের মুখে তিনি আগেই অস্ট্রেলিয়া ত্যাগ করেন। ফলে সিডনির অনুষ্ঠান ছাড়াও ক্যানবেরা, অ্যাডিলেড এবং পার্থে নির্ধারিত বাকি তিনটি অনুষ্ঠানও বাতিল ঘোষণা করা হয়েছে।
অস্ট্রেলিয়ার অভিবাসনবিষয়ক সহকারী মন্ত্রী ম্যাট থিসলেথওয়েট (Matt Thistlethwaite) স্কাই নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বলেন, ‘যারা ইহুদিবিদ্বেষী বা ইসলামফোবিক মতাদর্শ ছড়ায়, তাদের প্রতি আমাদের কোনো সহনশীলতা নেই। মাইগ্রেশন অ্যাক্ট অনুযায়ী এ ধরনের ক্ষেত্রে ভিসা বাতিলের ক্ষমতা আমাদের রয়েছে।’
তিনি আরও উল্লেখ করেন, এর আগে একই ধরনের অভিযোগে মিজানুর রহমান আজহারীর ক্ষেত্রেও অস্ট্রেলিয়া সরকার একই পদক্ষেপ নিয়েছিল।


