সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গ্ল্যামারাস সাজপোশাক ও রিলস ভিডিও দিয়ে পরিচিত হয়ে ওঠা ‘রিহিয়া রিহি’ নামের এক তরুণী পরিচয়ের আড়ালে লুকিয়ে থাকা বাস্তব পরিচয় ঘিরে তৈরি হয়েছে চাঞ্চল্য। ২৫ হাজারের বেশি ফলোয়ার নিয়ে ভার্চুয়াল জগতে আলোচিত এই প্রোফাইলের প্রকৃত পরিচয় হিসেবে উঠে এসেছে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবা উপজেলার সৈয়দাবাদ আদর্শ মহাবিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের সংস্কৃতিবিষয়ক সম্পাদক রেদোয়ান ইসলাম (Redowan Islam)।
নারী সেজে নিয়মিত কন্টেন্ট তৈরি করার বিষয়টি প্রকাশ্যে আসার পর ‘জেন্ডার সংক্রান্ত তথ্য গোপনের’ অভিযোগে তাকে সংগঠন থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। রোববার (৬ এপ্রিল) জেলা ছাত্রদলের দপ্তর সম্পাদক মামুন খান স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই সিদ্ধান্ত জানানো হয়।
জেলা ছাত্রদলের সদস্য সচিব সমীর চক্রবর্তী জানান, সৈয়দাবাদ আদর্শ মহাবিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের ৫১ সদস্যের পূর্ণাঙ্গ কমিটিতে রেদোয়ান নিজেকে পুরুষ হিসেবে উল্লেখ করে পদ লাভ করেছিলেন। তবে পরবর্তীতে তার লিঙ্গ পরিবর্তন সংক্রান্ত তথ্য ছড়িয়ে পড়লে সাংগঠনিক শৃঙ্খলার প্রশ্নে তাকে অব্যাহতি দেওয়া হয়।
তবে বহিষ্কারের পর নিজের অবস্থান পরিষ্কার করেছেন রেদোয়ান ইসলাম। তিনি সরাসরি লিঙ্গ পরিবর্তনের বিষয়টি অস্বীকার করে দাবি করেন, তিনি ‘ট্রান্সজেন্ডার’ নন। ফেসবুক পেজে দেওয়া এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, ‘আমি একজন সম্পূর্ণ ছেলে এবং সংস্কৃতিকর্মী। মূলত বিনোদনের উদ্দেশ্যে, মজার ছলে নারী সেজে এসব ভিডিও তৈরি করতাম।’
নিজের কর্মকাণ্ড নিয়ে অনুতাপ প্রকাশ করে তিনি আরও বলেন, ‘আমি আমার ভুল বুঝতে পেরেছি। আমাকে রাস্তায় দেখলে কেউ যেন খারাপ আচরণ না করেন। আমাকে নিজের ভাইয়ের মতো দেখলে আমার জন্য স্বাভাবিক জীবনে ফেরা সহজ হবে।’
রেদোয়ানের বাবা জাহাঙ্গীর আলম (Jahangir Alam) বিষয়টিকে গুজব হিসেবে উড়িয়ে দিয়েছেন। তিনি জানান, ঢাকায় কিছু কন্টেন্ট ক্রিয়েটরের প্রভাবেই রেদোয়ান এসব ভিডিও বানাত, যা পরিবারের কেউ সমর্থন করত না। ছেলে থেকে মেয়ে হয়ে যাওয়ার তথ্যটি সঠিক নয় বলেও তিনি দাবি করেন। ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসার পর লোকলজ্জার কারণে রেদোয়ান বর্তমানে বাড়ির বাইরে অবস্থান করছেন বলেও জানান তিনি।
এদিকে, বিতর্কের জেরে রেদোয়ান তার টিকটক ও ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্ট ডিঅ্যাক্টিভেট করেছেন এবং ফেসবুক পেজ থেকে সংশ্লিষ্ট কন্টেন্ট সরিয়ে ফেলেছেন। পুরো ঘটনাটি স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গন এবং নেটিজেনদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়ার জন্ম দিয়েছে। কেউ বিষয়টিকে ব্যক্তিগত স্বাধীনতার অংশ হিসেবে দেখছেন, আবার কেউ দলীয় পদ পাওয়ার ক্ষেত্রে তথ্য গোপনের বিষয়টিকেই বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন।
