বিশ্বের সবচেয়ে বয়স্ক পরিচিত স্থলচর প্রাণী হিসেবে পরিচিত জোনাথন নামের কচ্ছপকে নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ‘মারা যাওয়ার’ খবরটি শেষ পর্যন্ত গুজব হিসেবেই প্রমাণিত হয়েছে। সেন্ট হেলেনা দ্বীপে বসবাসকারী এই ঐতিহাসিক প্রাণীটি এখনও জীবিত রয়েছে—এমনটাই নিশ্চিত করেছেন সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
ঘটনার সূত্রপাত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্সে একটি পোস্ট থেকে, যেখানে নিজেকে পশুচিকিৎসক দাবি করা জো হলিন্স নামের একটি অ্যাকাউন্ট থেকে জানানো হয়, আনুমানিক ১৯৩ বছর বয়সে জোনাথনের মৃত্যু হয়েছে। পোস্টটিতে ‘হৃদয়বিদারক’ ভাষায় এই খবরটি তুলে ধরা হয়, যা দ্রুতই ভাইরাল হয়ে যায়।
এই দাবিকে ঘিরে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমেও আলোড়ন সৃষ্টি হয়। বিবিসি (BBC), ইউএসএ টুডে (USA Today) এবং ডেইলি মেইল (Daily Mail) সহ একাধিক সংবাদমাধ্যম বিষয়টি নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশ করে।
তবে পরে পুরো বিষয়টি নিয়ে স্পষ্ট ব্যাখ্যা দেন প্রকৃত পশুচিকিৎসক জো হলিন্স (Joe Hollins)। তিনি ইউএসএ টুডেকে বলেন, “কচ্ছপ জোনাথন পুরোপুরি জীবিত আছে।” একই সঙ্গে তিনি জানান, তার নাম ব্যবহার করে কেউ সামাজিক মাধ্যমে ভুয়া পোস্ট দিচ্ছে এবং সম্ভবত ক্রিপ্টো অনুদান সংগ্রহের চেষ্টা করছে। তার ভাষায়, “এটি কোনো এপ্রিল ফুলের রসিকতা নয়, এটি সরাসরি প্রতারণা।”
এদিকে সেন্ট হেলেনার গভর্নর নাইজেল ফিলিপস (Nigel Phillips) বিবিসিকে ইমেইলে নিশ্চিত করেছেন, “জোনাথন সম্পূর্ণভাবে জীবিত আছে।”
জোনাথনের প্রকৃত বয়স নির্দিষ্টভাবে জানা না গেলেও, ১৮৮২ সালে তোলা একটি পুরনো ছবিতে দেখা যায়, তাকে যখন প্রথম দ্বীপে আনা হয়, তখন সে পূর্ণবয়স্ক ছিল। সে সময় থেকেই সেন্ট হেলেনার গভর্নরের সরকারি বাসভবন প্ল্যান্টেশন হাউসের প্রাঙ্গণেই তার বসবাস।
বিশেষজ্ঞদের ধারণা, সেই সময়ে তার বয়স প্রায় ৫০ বছর ছিল, যা অনুযায়ী বর্তমানে তার বয়স প্রায় ১৯০ বছরের কাছাকাছি।
দীর্ঘ জীবনের এই বিস্ময়কর যাত্রায় জোনাথন অন্তত আটজন ব্রিটিশ রাজার শাসনকাল অতিক্রম করেছে। ১৯৪৭ সালে সে জর্জ ষষ্ঠ (George VI) এবং ভবিষ্যৎ এলিজাবেথ দ্বিতীয় (Elizabeth II)-এর সেন্ট হেলেনা সফরের সময় তাদের সাথেও ‘সাক্ষাৎ’ করেছিল।
সবশেষে, ২০২৪ সালে তাকে বিশ্বের সবচেয়ে বয়স্ক পরিচিত স্থলচর প্রাণী হিসেবে স্বীকৃতি দিয়ে গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ড সনদ প্রদান করা হয়—যা তার অসাধারণ অস্তিত্বকে আনুষ্ঠানিকভাবে বিশ্বমঞ্চে তুলে ধরে।


