মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাত ঘিরে বৈশ্বিক উদ্বেগের প্রেক্ষাপটে দ্রুত ও কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন নোবেলজয়ী অর্থনীতিবিদ ও সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস (Muhammad Yunus)। বুধবার গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে তিনি বিশ্বনেতাদের প্রতি এই জরুরি বার্তা দেন।
বিবৃতিতে ড. ইউনূস স্পষ্ট করে বলেন, ইতোমধ্যেই সংঘাত ও যুদ্ধের ক্ষতে জর্জরিত বিশ্বকে বর্তমান পরিস্থিতি আরও গভীর অস্থিতিশীলতার দিকে ঠেলে দিচ্ছে। মানবতা আজ এক কঠিন পরীক্ষার মুখোমুখি—যেখানে বেসামরিক মানুষ, বিশেষ করে শিশুরা প্রাণ হারাচ্ছে; ধ্বংসস্তূপে পরিণত হচ্ছে বাড়িঘর, হাসপাতাল ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠান; উপেক্ষিত হচ্ছে মানুষের মৌলিক অধিকার ও প্রয়োজন।
তিনি সতর্ক করে বলেন, এই সংকটকে কোনোভাবেই কেবল আঞ্চলিক সমস্যা হিসেবে দেখা উচিত নয়। বরং এটি সমগ্র মানবজাতির জন্য এক গভীর নৈতিক চ্যালেঞ্জ। যুদ্ধের প্রভাব বিশ্বজুড়ে অনিশ্চয়তা ও অস্থিরতা বাড়িয়ে তুলছে, যার সবচেয়ে বেশি বোঝা বহন করছে দরিদ্র ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠী। তাদের জীবন-জীবিকা ক্রমেই আরও ঝুঁকির মুখে পড়ছে।
ড. ইউনূস তার বক্তব্যে জোর দিয়ে বলেন, এই সংকট মোকাবিলায় সাহস, সহমর্মিতা ও সুস্পষ্ট লক্ষ্য নিয়ে বৈশ্বিক ঐক্য গড়ে তোলা এখন সময়ের সবচেয়ে বড় দাবি। তিনি বিশ্বনেতাদের উদ্দেশে বলেন, এই পৃথিবীকে টিকিয়ে রাখতে হলে এখনই এগিয়ে আসতে হবে। আন্তর্জাতিক আইন রক্ষা এবং ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে দৃঢ় ও কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি।
তিনি আরও বলেন, সামরিক উত্তেজনার পথ থেকে সরে এসে কূটনৈতিক সংলাপকে অগ্রাধিকার দিতে হবে। একইসঙ্গে বহুপাক্ষিক সহযোগিতা জোরদার করার ওপরও গুরুত্ব দেন তিনি, যা দীর্ঘমেয়াদে স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করতে সহায়ক হবে।
বিবৃতির শেষাংশে ড. ইউনূস এক গভীর মানবিক বার্তা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, এটি কেবল ভূরাজনীতি বা ক্ষমতার লড়াই নয়—এটি মানব সভ্যতার ভবিষ্যতের প্রশ্ন। আমাদের সিদ্ধান্ত নিতে হবে—আমরা কি যুদ্ধকে বেছে নেব, নাকি শান্তিকে? হামলার পথ নয়, সংলাপের পথই হতে পারে একমাত্র টেকসই সমাধান। বিভাজনের পরিবর্তে ঐক্যের পথেই রয়েছে মানবতার মুক্তি।


