জুলাই সনদ ও গণভোটের রায় বাস্তবায়নের দাবিতে ঢাবিতে শিক্ষার্থীর আমরণ অনশন

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে (ঢাবি) জুলাই সনদ ও গণভোটের রায় বাস্তবায়নসহ একাধিক দাবিতে এক শিক্ষার্থী আমরণ অনশন কর্মসূচি শুরু করেছেন। ঘটনাটি নতুন করে শিক্ষাঙ্গনে আন্দোলনের আবহ তৈরি করেছে।

বুধবার বিকেলে বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসি সংলগ্ন রাজু ভাস্কর্যের পাদদেশে অনশন শুরু করেন আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের শিক্ষার্থী এবং মুক্তিযোদ্ধা জিয়াউর রহমান হল সংসদের কার্যনির্বাহী সদস্য মো. সাদিক মুনওয়ার মুনেম (Md. Sadik Munwar Munem)।

অনশন শুরুর সময় তিনি বলেন, সহস্র প্রাণের বিনিময়ে অর্জিত নতুন বাংলাদেশের স্বপ্ন ও প্রতিশ্রুতি আজ হুমকির মুখে। রাষ্ট্র কাঠামো সংস্কার ও বৈষম্যহীন সমাজ প্রতিষ্ঠার যে অঙ্গীকার করা হয়েছিল, বর্তমান সরকারের কর্মকাণ্ডে তা বাধাগ্রস্ত হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।

তার ভাষায়, গণভোটের রায়কে পাশ কাটিয়ে দেশকে আবারও গু’\ম, খু’\ন, দু’\র্নীতি ও নিপীড়নের পথে ঠেলে দেওয়ার চেষ্টা চলছে। এই পরিস্থিতি কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। একজন সচেতন নাগরিক হিসেবে জুলাইয়ের চেতনা ও জনগণের রায় রক্ষায় তিনি অনশনে বসেছেন বলে জানান।

অনশনকারী শিক্ষার্থী তার দাবিগুলোর মধ্যে উল্লেখ করেন—গণভোটে উল্লিখিত বিষয়গুলো দ্রুত সংসদে উত্থাপন ও বাস্তবায়ন, গু’\ম প্রতিরোধ ও প্রতিকারসংক্রান্ত অধ্যাদেশসহ গুরুত্বপূর্ণ অধ্যাদেশগুলোকে বিল আকারে সংসদে পেশ করা এবং জুলাই সনদের অবশিষ্ট বিষয় বাস্তবায়নে একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ ঘোষণা।

সন্ধ্যার দিকে অনশনস্থলে এসে সংহতি জানান ডাকসুর নেতৃবৃন্দ ও বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষার্থীরা। এ সময় বক্তব্য রাখেন ডাকসুর সমাজসেবা সম্পাদক এবি জুবায়ের (AB Jubayer)।

তিনি বলেন, গণভোটে প্রায় ৭০ শতাংশ মানুষের সমর্থন থাকার পরও সেই রায় বাস্তবায়নের দাবিতে শিক্ষার্থীদের অনশনে বসতে হচ্ছে—এটি অত্যন্ত লজ্জাজনক। তার অভিযোগ, ক্ষমতাসীনরা নিজেদের সুবিধাজনক অধ্যাদেশ বাস্তবায়নে সক্রিয় থাকলেও জনগণের জবাবদিহিতা নিশ্চিত করে এমন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো এড়িয়ে যাচ্ছে।

এবি জুবায়ের আরও বলেন, জুলাই আন্দোলনের শহীদরা ক্ষমতার জন্য জীবন দেননি। তারা একটি ন্যায়ভিত্তিক রাষ্ট্রের স্বপ্ন দেখেছিলেন। কিন্তু বর্তমান শাসনব্যবস্থা আগের মতোই কাঠামো টিকিয়ে রাখার চেষ্টা করছে বলে তিনি দাবি করেন।

তিনি সতর্ক করে বলেন, গণভোটের রায় বাস্তবায়নে গড়িমসি করা হলে আন্দোলন আরও বিস্তৃত আকার ধারণ করবে। বর্তমানে তিনজন অনশনে থাকলেও প্রয়োজনে তা শতাধিক থেকে লাখো মানুষের অংশগ্রহণে রূপ নিতে পারে।

অনশনস্থলে উপস্থিত শিক্ষার্থীরা জানান, তারা নতুন করে কোনো প্রাণহানি চান না। তবে জনগণের রায় এবং শহীদদের স্বপ্ন বাস্তবায়নের প্রশ্নে প্রয়োজনে কঠোর আন্দোলনে নামতেও তারা প্রস্তুত।