বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের উত্তাল সময় রংপুরে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয় (Begum Rokeya University) শিক্ষার্থী আবু সাঈদ (Abu Saeed)-এর হ’\ত্যা ঘটনাকে কেন্দ্র করে দায়ের হওয়া মানবতাবিরোধী অপরাধ মামলার বহুল প্রতীক্ষিত রায় আজ ঘোষণা করা হবে।
বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল (International Crimes Tribunal)-২ এই রায় ঘোষণা করবে। রায় ঘোষণাকে ঘিরে ইতোমধ্যেই আদালত প্রাঙ্গণে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে।
রায়ের দিন সকালে ছয় আসামিকে ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়েছে। এদের মধ্যে রয়েছেন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য থেকে শুরু করে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কর্মকর্তাও। মামলার অগ্রগতির প্রতিটি ধাপেই যাদের নাম উঠে এসেছে, আজ তাদের ভাগ্য নির্ধারণের দিন।
ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম (Md. Aminul Islam) জানিয়েছেন, রায় ঘোষণার পুরো কার্যক্রম বাংলাদেশ টেলিভিশনে সরাসরি সম্প্রচার করা হবে, যাতে দেশবাসী সরাসরি এই গুরুত্বপূর্ণ বিচার প্রক্রিয়া প্রত্যক্ষ করতে পারে।
এর আগে গত ৫ মার্চ ট্রাইব্যুনাল আজকের দিনটি রায়ের জন্য নির্ধারণ করে। দীর্ঘ শুনানি শেষে রাষ্ট্রপক্ষ ও আসামিপক্ষের যুক্তিতর্ক সমাপ্ত হলে গত ২৭ জানুয়ারি মামলাটি রায়ের জন্য অপেক্ষমাণ রাখা হয়।
জুলাই আন্দোলনের প্রথম শহীদ হিসেবে পরিচিত আবু সাঈদের হ’\ত্যা’কা’\ণ্ডের তদন্ত প্রতিবেদন গত বছরের ২৬ জুন প্রসিকিউশনের কাছে জমা দেওয়া হয়। এরপর প্রসিকিউশন ট্রাইব্যুনালে অভিযোগ দাখিল করলে ৩০ জুন তা আমলে নেওয়া হয় এবং বিচারিক প্রক্রিয়া আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়।
মামলায় মোট ৩০ জনকে আসামি করা হলেও এখন পর্যন্ত ছয়জন গ্রেপ্তার হয়ে কারাগারে রয়েছেন। তারা হলেন—পুলিশের উপপরিদর্শক (এসআই) আমীর হোসেন, কনস্টেবল সুজন চন্দ্র রায়, বেরোবির প্রক্টর শরীফুল ইসলাম, তৎকালীন নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগের বেরোবি শাখার সাধারণ সম্পাদক এমরান চৌধুরী আকাশ, সহকারী রেজিস্ট্রার রাফিউল হাসান রাসেল এবং কর্মচারী আনোয়ার পারভেজ আপেল।
গত বছরের ৬ আগস্ট ৩০ আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করা হয়। এরপর ২৭ আগস্ট সূচনা বক্তব্যের মাধ্যমে মামলার আনুষ্ঠানিক বিচার শুরু হয়। পলাতক আসামিদের পক্ষে গত ২২ জুলাই রাষ্ট্রীয় খরচে চারজন আইনজীবী নিয়োগ দেয় ট্রাইব্যুনাল, যা এই মামলার গুরুত্ব ও সংবেদনশীলতা আরও স্পষ্ট করে।
বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সময় ২০২৪ সালের ১৬ জুলাই আবু সাঈদ নি’\হত হন। এই ঘটনাই আন্দোলনের মোড় ঘুরিয়ে দেয়। তার নি’\হত হওয়ার পর দেশজুড়ে প্রতিবাদের আগুন ছড়িয়ে পড়ে, যা ক্রমেই তীব্র রূপ নেয়। সেই ধারাবাহিকতায় ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ (Awami League) সরকার ক্ষমতাচ্যুত হয়—একটি রাজনৈতিক অধ্যায়ের নাটকীয় সমাপ্তি ঘটে।
