আত্মগোপনের ২০ মাস পর শি’\রী’\ন শা’\রমি’\ন গ্রে’\প্তা’\র, জিজ্ঞাসাবাদে উঠে আসছে নানা তথ্য

প্রায় ২০ মাস আত্মগোপনে থাকার পর গত মঙ্গলবার ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) হাতে গ্রে’\প্তা’\র হন সাবেক স্পিকার শিরীন শারমিন (Shirin Sharmin)। আদালতে হাজির করে রিমান্ড আবেদন করা হলেও তা নামঞ্জুর করে তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়। এর আগে ডিবির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা তাকে প্রাথমিকভাবে জিজ্ঞাসাবাদ করেন, যেখানে তিনি কিছু বিষয়ে খোলামেলা বক্তব্য দিলেও কিছু তথ্য গোপন রেখেছেন বলে জানা গেছে।

জিজ্ঞাসাবাদে তিনি জানিয়েছেন, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ (Awami League) সরকারের পতনের পর তিনি ক্যান্টনমেন্টে সেনা হেফাজতে আশ্রয় নেন। পরবর্তীতে ১৪ সেপ্টেম্বর সেখান থেকে বের হয়ে উত্তরার ৩ নম্বর সেক্টরে এক আত্মীয়ের বাসায় ওঠেন।

গ্রে’\প্তা’\রের আগে তিনি চারবার বাসা পরিবর্তন করেন। সর্বশেষ ধানমন্ডির ৮/এ সড়কের একটি বাসায় অবস্থান করছিলেন, সেখান থেকেই তাকে গ্রে’\প্তা’\র করা হয়। জিজ্ঞাসাবাদে তিনি স্বীকার করেছেন, লোক মারফত দলের মধ্যম সারির কয়েকজন নেতার সঙ্গে তার যোগাযোগ ছিল এবং তারা তার ঘনিষ্ঠ।

তবে তথাকথিত ‘রিফর্মড’ আওয়ামী লীগ গঠনের সঙ্গে নিজেকে সম্পৃক্ত নন বলে দাবি করেছেন তিনি। যদিও তার ভাষ্য অনুযায়ী, শেখ হাসিনাবিহীন একটি নতুন আওয়ামী লীগ গঠনে দেশি-বিদেশি মহলের তৎপরতার কথা তিনি শুনেছেন। এ প্রক্রিয়ায় সোহেল তাজ (Sohel Taj)-কে প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল বলেও তিনি উল্লেখ করেন। প্রথমে সময় নিলেও পরে সোহেল তাজ কোনো দায়িত্ব নেবেন না বলে স্পষ্ট করে দেন।

ডিবির এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানান, তার দেওয়া তথ্যগুলো যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে।

জিজ্ঞাসাবাদে শি’\রী’\ন আরও দাবি করেছেন, বেলজিয়ামে অবস্থানরত সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাছান মাহমুদ এবং যুক্তরাজ্যে থাকা সাবেক নৌপরিবহনমন্ত্রী খালিদ মাহমুদ চৌধুরীর সঙ্গে তার যোগাযোগ ছিল। তারা তাকে বিভিন্নভাবে রিফর্মড আওয়ামী লীগ গঠনে উৎসাহিত করলেও তিনি সাড়া দেননি বলে জানিয়েছেন।

ভারতে অবস্থানরত শেখ হাসিনা (Sheikh Hasina)-র সঙ্গে কোনো যোগাযোগ ছিল কি না—এমন প্রশ্নে তিনি সরাসরি তা অস্বীকার করেছেন।

তিনি আরও জানান, ২০২৪ সালের ১৪ আগস্ট সাবেক ডেপুটি স্পিকার শামসুল হক টুকু গ্রে’\প্তা’\র হওয়ার পর থেকেই তিনি আতঙ্কে ছিলেন। নতুন সরকার গঠনের পরও তার আশা ছিল হয়তো তাকে গ্রে’\প্তা’\র করা হবে না। তবে শেষ পর্যন্ত গ্রে’\প্তা’\রের পর তিনি মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছেন বলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।

ডিবি সূত্রে জানা গেছে, তার সঙ্গে যোগাযোগ থাকা আওয়ামী লীগের মধ্যম সারির নেতাদের একটি তালিকা প্রস্তুত করা হচ্ছে। কার্যক্রম নিষিদ্ধ এই দলের রাষ্ট্রবিরোধী তৎপরতার আশঙ্কাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

ডিবি পুলিশ তাকে আরও জিজ্ঞাসাবাদের জন্য রিমান্ডে নিতে চাইলেও আদালত তা নাকচ করে কারাগারে পাঠিয়েছে। তদন্তের স্বার্থে পুনরায় রিমান্ড আবেদন করা হবে বলে জানিয়েছে ডিবি। আদালত অনুমতি দিলে পরবর্তী সময়ে আরও বিস্তারিত তথ্য সামনে আসতে পারে।