বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর বার্ষিক মহড়া ‘আকাশ বিজয়-২০২৬’ সফলভাবে শেষ হয়েছে, যেখানে বাহিনীর সার্বিক অপারেশনাল প্রস্তুতি ও সক্ষমতা বাস্তবসম্মত পরিস্থিতিতে যাচাই করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার মহড়ার সমাপনী কার্যক্রম সম্পন্ন হয়।
মহড়ার বিভিন্ন ধাপ সরেজমিনে পরিদর্শন করেন বিমানবাহিনী প্রধান এয়ার চীফ মার্শাল হাসান মাহমুদ (Hasan Mahmud)। তার উপস্থিতিতে পরিচালিত এই মহড়া তিনটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপে বিভক্ত ছিল—কমিউনিকেশন এক্সারসাইজ (COMEX), লজিস্টিক এক্সারসাইজ (LOGEX) এবং লাইভ এক্সারসাইজ (LIVEX)। প্রতিটি ধাপে বাস্তব পরিস্থিতির অনুকরণে বাহিনীর প্রস্তুতি ও সমন্বয় দক্ষতা মূল্যায়ন করা হয়।
মহড়ায় বৈমানিকসহ বিমান বাহিনীর সদস্যরা আকাশযুদ্ধের নানা কৌশল অনুশীলন করেন। যুদ্ধবিমানের মাধ্যমে এয়ার অ্যাটাক ও ইন্টারসেপশন, আকাশ থেকে শত্রু এলাকায় নজরদারি, রশদ সরবরাহ, সৈন্য ও অস্ত্র স্থানান্তর এবং বিশেষ অভিযানের মতো গুরুত্বপূর্ণ দিকগুলো এতে অন্তর্ভুক্ত ছিল।
এর পাশাপাশি শত্রু এলাকায় ইজেক্ট হওয়া বৈমানিককে উদ্ধারের জন্য কমান্ডো অভিযানের (Combat Search and Rescue – CSAR) মহড়াও পরিচালিত হয়, যা বাস্তব যুদ্ধক্ষেত্রে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি সক্ষমতা।
নবসংযুক্ত অ্যান্টি-ড্রোন সিস্টেম ব্যবহার করে শত্রু ড্রোন প্রতিহত করার কৌশল এবং রাতের অন্ধকারে গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় এয়ারবর্ন ট্রুপস ইনসার্শনের মতো জটিল অপারেশনও মহড়ায় অন্তর্ভুক্ত ছিল। একইসঙ্গে রাডার স্কোয়াড্রনের মাধ্যমে সম্ভাব্য আক্রমণ শনাক্ত করে যুদ্ধবিমান ও মিসাইল ইউনিটের সহায়তায় প্রতিরোধ গড়ে তোলার কৌশল অনুশীলন করা হয়।
এবারের মহড়ায় যুদ্ধবিমান, পরিবহন বিমান, হেলিকপ্টার, রাডার স্কোয়াড্রন, মিসাইল ইউনিট এবং আনম্যানড এরিয়াল সিস্টেম সক্রিয়ভাবে অংশ নেয়। গত ৫ এপ্রিল থেকে সিলেট, টাঙ্গাইল, লালমনিরহাট, শমশেরনগর, বরিশাল, রসুলপুর ও সুধারামসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে এই মহড়া পরিচালিত হয়।
মহড়াকে আরও কার্যকর ও বাস্তবসম্মত করতে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী (Bangladesh Army), বাংলাদেশ নৌবাহিনী (Bangladesh Navy), বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (Border Guard Bangladesh), বাংলাদেশ পুলিশ (Bangladesh Police), সিভিল ডিফেন্স এবং বিএনসিসি (এয়ার উইং) অংশ নেয়। এতে আন্তঃবাহিনী সমন্বয় আরও জোরদার হয়।
আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর) জানায়, এই মহড়ার মাধ্যমে বিমান বাহিনীর বিদ্যমান সমরাস্ত্র ও আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার কার্যকারিতা মূল্যায়ন করা হয়েছে। পাশাপাশি ভবিষ্যতে সক্ষমতা উন্নয়নের ক্ষেত্রেও এটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে।
