দেশের বিচার ও সাংবিধানিক কাঠামোতে গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তনের অংশ হিসেবে সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় অধ্যাদেশ-২০২৬ রহিতকরণ বিল জাতীয় সংসদে পাস হয়েছে। একইসঙ্গে অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে জারি করা একাধিক অধ্যাদেশ বাতিল ও সংশোধনের মাধ্যমে নতুন আইনি কাঠামো গঠনের উদ্যোগও নেওয়া হয়েছে।
৬ এপ্রিল জাতীয় সংসদ (Jatiya Sangsad)-এ সুপ্রিম কোর্টের স্বতন্ত্র সচিবালয় প্রতিষ্ঠা এবং বিচারক নিয়োগ সংক্রান্ত অধ্যাদেশ বাতিল করতে বিল তোলা হয়। পাশাপাশি জাতীয় মানবাধিকার কমিশনকে শক্তিশালী করার লক্ষ্যে পূর্বের আইন পুনর্বহাল করতেও আরেকটি বিল উত্থাপন করা হয়।
ওইদিন আইনমন্ত্রী আসাদুজ্জামান (Asaduzzaman) সংসদে পৃথকভাবে তিনটি বিল উপস্থাপন করেন। বিলগুলো নিয়ে আলোচনা চলাকালে বিরোধীদল তাদের আপত্তির বিষয়টি স্পষ্টভাবে তুলে ধরে।
উত্থাপিত বিলগুলোর মধ্যে রয়েছে—সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় (রহিতকরণ) বিল, সুপ্রিম কোর্টের বিচারক নিয়োগ (রহিতকরণ) বিল এবং জাতীয় মানবাধিকার কমিশন (রহিতকরণ ও পুনঃপ্রচলন) বিল। এসব অধ্যাদেশ বাতিলের সিদ্ধান্ত নিয়ে জাতীয় সংসদের বিশেষ কমিটিতে বিরোধীদলের পক্ষ থেকে ‘নোট অব ডিসেন্ট’ বা আনুষ্ঠানিক আপত্তি জানানো হয়েছিল।
সুপ্রিম কোর্টসংক্রান্ত বিল উত্থাপনের সময় বিরোধীদলীয় সদস্যরা আপত্তি তুললে আইনমন্ত্রী বলেন, বিশেষ কমিটিতে তাদের আপত্তি ছিল এবং তিনি এখন শুধু বিলগুলো সংসদে উপস্থাপন করছেন। পরে এগুলো নিয়ে বিস্তারিত বিতর্কের সুযোগ রাখার জন্য তিনি স্পিকারের কাছে অনুরোধ জানান।
একই দিনে সংসদে আরও সাতটি গুরুত্বপূর্ণ বিল পাস করা হয়, যার মধ্যে নির্বাচন কমিশনের ক্ষমতা বাড়ানোর বিষয়টিও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। এসব বিলের ওপর কোনো দীর্ঘ আলোচনা ছাড়াই সরাসরি কণ্ঠভোটে অনুমোদন দেওয়া হয়।
স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ (Hafiz Uddin Ahmed)-এর সভাপতিত্বে আইনমন্ত্রী একে একে রিপ্রেজেন্টেশন অব দ্য পিপল (সংশোধন) বিল, জাতীয় সংসদের নির্বাচনী এলাকার সীমানা নির্ধারণ (সংশোধন) বিল, নির্বাচন কমিশন সচিবালয় (সংশোধন) বিল, নির্বাচন কর্মকর্তা (বিশেষ বিধান) (সংশোধন) বিল, ভোটার তালিকা (সংশোধন) বিল, জাতীয় সংসদ সচিবালয় (অন্তর্বর্তীকালীন বিশেষ বিধান) রহিতকরণ বিল এবং বাংলাদেশ ল’ অফিসার্স (সংশোধন) বিল পাসের জন্য উপস্থাপন করেন।
কোনো সংশোধনী প্রস্তাব না থাকায় বিলগুলো দফাওয়ারি ভোটে তোলা হলে কণ্ঠভোটে তা পাস হয়। সংসদের এই সিদ্ধান্ত দেশের আইন ও প্রশাসনিক কাঠামোতে নতুন দিকনির্দেশনা দেবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
