পহেলা বৈশাখে কড়া নিরাপত্তা, সন্ধ্যা ৬টার মধ্যে শেষ করতে হবে সব আয়োজন

বাঙালি জীবনের অসাম্প্রদায়িক ও সর্বজনীন উৎসব পহেলা বৈশাখ আবারও সামনে। ব্যস্ত নগরজীবন হোক কিংবা গ্রামীণ জনপদ—এই নববর্ষই বাঙালিকে এক সুতোয় গেঁথে দেয়, জাগিয়ে তোলে জাতীয় চেতনা ও শিকড়ের প্রতি গভীর টান।

এই উৎসব যেন শুধু একটি দিন নয়, বরং বাঙালির আত্মপরিচয়ের এক উজ্জ্বল প্রতিচ্ছবি। ধর্ম, বর্ণ বা পরিচয়ের সীমা ছাড়িয়ে বাংলা নববর্ষ হয়ে ওঠে সবার মিলনমেলা। বাংলা নববর্ষ ১৪৩৩-কে ঘিরে তাই দেশজুড়ে প্রস্তুতি চলছে নানা আয়োজনে, আর তার সঙ্গে সমানতালে জোরদার করা হয়েছে নিরাপত্তাব্যবস্থা।

নববর্ষ উদ্‌যাপনকে কেন্দ্র করে দেশব্যাপী নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় (Ministry of Home Affairs) একাধিক নির্দেশনা জারি করেছে। এর মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত হলো—সব অনুষ্ঠান সন্ধ্যা ৬টার মধ্যে শেষ করতে হবে।

বুধবার বাংলাদেশ সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সম্মেলনকক্ষে সিনিয়র সচিব মনজুর মোর্শেদ চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত আইনশৃঙ্খলা-সংক্রান্ত সভায় এসব সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। পরদিন বৃহস্পতিবার এক বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, রমনা পার্ক (Ramna Park), সোহরাওয়ার্দী উদ্যান (Suhrawardy Udyan), ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (University of Dhaka), হাতিরঝিল, রবীন্দ্র সরোবরসহ দেশব্যাপী সব অনুষ্ঠান সন্ধ্যা ৬টার মধ্যে শেষ করতে হবে। বিকেল ৫টার পর এসব এলাকায় নতুন করে কাউকে প্রবেশ করতে দেওয়া হবে না।

বিশেষ গুরুত্ব পাচ্ছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদের ঐতিহ্যবাহী ‘বৈশাখী শোভাযাত্রা’। এই শোভাযাত্রাকে কেন্দ্র করে নেওয়া হয়েছে বাড়তি নিরাপত্তা ব্যবস্থা। অংশগ্রহণকারীরা মুখোশ হাতে বহন করতে পারলেও মুখ ঢেকে পরতে পারবেন না। শোভাযাত্রা শুরু হওয়ার পর মাঝপথে কেউ নতুন করে যুক্ত হতে পারবেন না।

নিরাপত্তার স্বার্থে দেশব্যাপী ফানুস ওড়ানো, আতশবাজি ফোটানো, গ্যাস বেলুন ও ভুভুজেলা বাঁশি বাজানো নিষিদ্ধ করা হয়েছে। পাশাপাশি মোটরসাইকেল ও গাড়ির রেসিং ঠেকাতে কঠোর নজরদারির ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

গুরুত্বপূর্ণ স্থানগুলোতে ডগ স্কোয়াড দিয়ে তল্লাশি চালানো হবে। স্থাপন করা হবে ওয়াচ টাওয়ার, সিসিটিভি ক্যামেরা ও আর্চওয়ে। ইভ টিজিং, ছিনতাই ও পকেটমার প্রতিরোধে সাদাপোশাকে গোয়েন্দা নজরদারি বাড়ানো হবে এবং নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে মোবাইল কোর্ট পরিচালিত হবে।

বড় অনুষ্ঠানস্থলগুলোতে প্রস্তুত থাকবে ফায়ার সার্ভিসের অগ্নিনির্বাপক যান, অ্যাম্বুলেন্স ও মেডিকেল টিম। রমনা বটমূল (Ramna Batamul) এলাকায় দুর্ঘটনা এড়াতে ডুবুরি দলও মোতায়েন করা হবে।

এছাড়া পহেলা বৈশাখের দিন (১৪ এপ্রিল) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকার টিএসসি মেট্রোরেল স্টেশন বন্ধ রাখার অনুরোধ জানানো হয়েছে। ১৩ এপ্রিল সন্ধ্যা ৭টার পর থেকে স্টিকারবিহীন কোনো যানবাহন বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় প্রবেশ করতে পারবে না।

সাধারণ মানুষকে ব্যাগ, ব্যাকপ্যাক, দেশলাই বা লাইটার বহন না করার অনুরোধ জানানো হয়েছে। শিশুদের সঙ্গে তাদের পরিচয়পত্র রাখার পরামর্শও দেওয়া হয়েছে, যাতে কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি মোকাবিলা করা সহজ হয়।