কামরাঙ্গীরচরে ৭ বছরের শিশুকে ভিক্ষাবৃত্তিতে বাধ্য করতে ভয়াবহ নির্যাতন; ৫ জনকে আমৃত্যু কারাদণ্ড

রাজধানীর কামরাঙ্গীরচর এলাকায় সাত বছরের এক শিশুকে অপহরণ করে পরিত্যক্ত ঘরে নিয়ে ভয়াবহ নির্যাতন ও শারীরিক বিকৃতির ঘটনায় দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়ার পর রায় ঘোষণা করেছেন আদালত। শিশুটিকে ভিক্ষাবৃত্তিতে নিয়োজিত করার উদ্দেশ্যে তার পুরুষাঙ্গ কেটে ফেলা হয়, পাশাপাশি গলায়, বুকে ও পেটে ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত এবং মাথায় ইট দিয়ে আঘাত করে গুরুতর জখম করা হয়। ঘটনার পর রক্তাক্ত অবস্থায় শিশুটিকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল (Dhaka Medical College Hospital)-এ ভর্তি করা হয়।

২০১০ সালের ৬ মে রাজধানীর কামরাঙ্গীরচর এলাকায় ঘটে যাওয়া এই ঘটনার পরদিন শিশুটির মা কামরাঙ্গীরচর থানায় একটি হত্যাচেষ্টার মামলা করেন। পরবর্তীতে শিশুটির বাবা নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে অভিযোগ দায়ের করেন। পরে ট্রাইব্যুনাল মামলাটি এজাহার হিসেবে গ্রহণের নির্দেশ দিলে তদন্তভার যায় পুলিশের হাতে এবং পরে র‌্যাব (Rapid Action Battalion)-এর কাছে হস্তান্তর করা হয়। তদন্ত শেষে ২০১১ সালের ১৫ মে সাতজনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র এবং দুই শিশুর বিরুদ্ধে দোষীপত্র দাখিল করা হয়।

অভিযোগ গঠনের মধ্য দিয়ে বিচার কার্যক্রম শুরু হয়। দীর্ঘ শুনানিতে আদালত ২০ জন সাক্ষীর জবানবন্দি গ্রহণ করে। যুক্তিতর্ক ও আত্মপক্ষ সমর্থন শেষে বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) ঢাকার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল (Women and Children Repression Prevention Tribunal) আসামিদের দোষী সাব্যস্ত করে রায় ঘোষণা করেন।

রায়ে পাঁচজনকে আমৃত্যু কারাদণ্ড দেওয়া হয়। দণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন—সালাহউদ্দিন, শরিফুল ওরফে কোরবান মিয়া, খন্দকার ওমর ফারুক, রমজান ও সাদ্দাম। পাশাপাশি ১৮ বছরের কম বয়স হওয়ায় দুই আসামিকে ১০ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। তবে কাউসার ও নাজমা আক্তার নামের দুই আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় আদালত তাদের খালাস দেন।

ঘটনার শুরু থেকে তদন্ত ও বিচারিক প্রক্রিয়া—সব মিলিয়ে দীর্ঘ ১৬ বছরের এই মামলার রায়ে চূড়ান্তভাবে দায়ীদের শাস্তি নিশ্চিত হলো, যা এলাকাজুড়ে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে।