মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে ঘোষিত দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতিকে বৈশ্বিক শক্তির ভারসাম্যে এক গুরুত্বপূর্ণ মোড় হিসেবে দেখছেন রামি জি. খৌরি (Rami G. Khouri)। আমেরিকান ইউনিভার্সিটি অব বৈরুত (American University of Beirut)-এর এই বিশিষ্ট পাবলিক পলিসি ফেলো মনে করেন, এই যুদ্ধবিরতি যুক্তরাষ্ট্রের পিছু হটা নয়, বরং “জীবন বাঁচানোর জন্য জরুরি ইজেকশন সিটের বাটন”।
কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আলজাজিরা (Al Jazeera)-তে প্রকাশিত এক নিবন্ধে তিনি বলেন, সাম্প্রতিক সংঘাত এমন কিছু নতুন বাস্তবতা সামনে এনেছে, যা দীর্ঘদিন ধরে প্রতিষ্ঠিত পশ্চিমা ও ইসরাইলি আধিপত্যকে সরাসরি চ্যালেঞ্জ করছে।
খৌরির বিশ্লেষণে উঠে আসে, প্রচলিত অর্থে সমঝোতার পথ খোঁজার বদলে ইরান এমন একটি পরিস্থিতি তৈরি করেছে, যেখানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল কার্যত সংঘাত থেকে বেরিয়ে আসার পথ খুঁজছে। তার ভাষায়, এটি অনেকটা এমন একটি ‘ইজেকশন সিট’, যেখানে যুদ্ধের ঘোষিত লক্ষ্য অর্জনে ব্যর্থতার পর পালানোর সুযোগ তৈরি হয়। এই যুদ্ধে ব্যাপকভাবে বেসামরিক অবকাঠামো ধ্বংস হয়েছে এবং আন্তর্জাতিক আইনের কার্যকারিতা প্রশ্নবিদ্ধ হয়েছে, কারণ সাধারণ মানুষের সুরক্ষা উপেক্ষিত থেকেছে।
আলোচনার নতুন ধারা
খৌরি দাবি করেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল এখন ইরানের প্রস্তাবিত ১০ দফা পরিকল্পনার ভিত্তিতে আলোচনায় বসতে রাজি হয়েছে। তিনি এটিকে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের অধিকার ও চাহিদা বিবেচনায় আনার একটি নতুন কূটনৈতিক পদ্ধতি হিসেবে দেখছেন।
পশ্চিমা শক্তির ওপর নিয়ন্ত্রণের ইঙ্গিত
তার মতে, এই চুক্তি দেখিয়েছে—মধ্যপ্রাচ্যের একটি দেশ এককভাবে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের সামরিক শক্তিকে কার্যত চ্যালেঞ্জ করতে পারে। এর মাধ্যমে ইরানের রাজনৈতিক দৃঢ়তা এবং আঞ্চলিক প্রভাব নতুনভাবে সামনে এসেছে।
ফিলিস্তিন ইস্যুর কেন্দ্রীয়তা
দীর্ঘমেয়াদি শান্তির জন্য ফিলিস্তিন সমস্যার সমাধান অপরিহার্য বলে মনে করেন খৌরি। তার মতে, এই ইস্যুর সমাধান ছাড়া ইসরাইলের সম্প্রসারণবাদী নীতি এবং মার্কিন আধিপত্যবাদী ভূমিকা অব্যাহত থাকবে।
তিনি আরও বলেন, জায়নবাদী সম্প্রসারণবাদকে প্রতিহত করা এবং মার্কিন সাম্রাজ্যবাদী কর্মকাণ্ড বন্ধ করতে হলে পশ্চিমাদের অবশ্যই ফিলিস্তিন প্রশ্নের স্থায়ী সমাধানের দিকে যেতে হবে।
মার্কিন বিশ্বাসযোগ্যতায় ধাক্কা
খৌরির মতে, এই সংঘাত যুক্তরাষ্ট্রের বিশ্বাসযোগ্যতার ওপর বড় আঘাত হেনেছে। বিশেষ করে আরব বিশ্বে যুক্তরাষ্ট্রের ভূমিকা একজন নির্ভরযোগ্য মধ্যস্থতাকারী ও নিরাপত্তা অংশীদার হিসেবে এখন প্রশ্নের মুখে।
শেষাংশে তিনি সতর্ক করে বলেন, মধ্যপ্রাচ্যে উপনিবেশিক সহিংসতা ও ঐতিহাসিক ক্ষতগুলো উপেক্ষা করা হলে ভবিষ্যতে আরও বড় আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক সংকট তৈরি হতে পারে।


