মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধবিরতির ঘোষণায় শেয়ারবাজারে স্বস্তির জোয়ার, সূচকে বড় উল্লম্ফন

মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনাপূর্ণ যুদ্ধ পরিস্থিতি হঠাৎ করেই নাটকীয় মোড় নেয়, আর সেই প্রভাব সরাসরি এসে পড়ে দেশের শেয়ারবাজারে। ইরানকে ‘গুড়িয়ে দেওয়া’র হুমকির মধ্যেই দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতির ঘোষণা দেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প (Donald Trump)। এই ঘোষণার পর বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে পড়া আতঙ্ক ও উদ্বেগের আবহে সাময়িক স্বস্তি ফিরে আসে। সেই ইতিবাচক মনোভাবের প্রতিফলন দেখা গেছে দেশের শেয়ারবাজারেও।

গত কয়েকদিন ধরে মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতকে ঘিরে যে অস্থিরতা বাজারে বিরাজ করছিল, যুদ্ধবিরতির ঘোষণার পর তা যেন এক ধরনের উৎসবমুখর পরিবেশে রূপ নেয়। বুধবারের লেনদেনে এই পরিবর্তনের স্পষ্ট চিত্র উঠে আসে।

দিনটিতে দেশের প্রধান শেয়ারবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (Dhaka Stock Exchange)-এর তিনটি সূচকই বড় ধরনের উল্লম্ফন দেখিয়েছে। এর মধ্যে প্রধান সূচক ডিএসইএক্স ১৬১ পয়েন্ট বেড়ে দাঁড়িয়েছে, যা শতকরা হিসাবে ৩ দশমিক ১২ শতাংশ প্রবৃদ্ধি নির্দেশ করে। একই সঙ্গে লেনদেনেও ফিরে আসে গতি—আগের দিনের তুলনায় প্রায় ৬৬ শতাংশ বেড়ে দিনশেষে লেনদেন দাঁড়ায় ৯৯১ কোটি ৫৯ লাখ টাকায়। গত দেড় মাসের মধ্যে এটিই সর্বোচ্চ লেনদেনের রেকর্ড। এর আগে সর্বোচ্চ লেনদেন হয়েছিল গত ১৭ ফেব্রুয়ারি, যার পরিমাণ ছিল ১ হাজার ২২২ কোটি টাকা।

বাজার পরিস্থিতি নিয়ে কথা বলতে গিয়ে ডিএসই ব্রোকার্স অ্যাসোসিয়েশনের সাবেক সভাপতি আহমেদ রশীদ লালী বলেন, মধ্যপ্রাচ্যে ১৪ দিনের যুদ্ধবিরতির ঘোষণায় বিনিয়োগকারীদের মধ্যে ইতিবাচক মনোভাব তৈরি হয়েছে। তাদের ধারণা, এই বিরতি হয়তো একটি স্থায়ী সমাধানের পথ খুলে দিতে পারে।

তবে নতুন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পরও বাজারে প্রত্যাশিত গতি না ফেরার প্রসঙ্গে তিনি কিছু উদ্বেগও তুলে ধরেন। তার মতে, নিয়ন্ত্রক সংস্থায় এখনো দৃশ্যমান কোনো পরিবর্তন আসেনি। বর্তমান কমিশন বহাল থাকবে কিনা, সে বিষয়ে সরকারের পক্ষ থেকে সুস্পষ্ট ঘোষণা না থাকায় বিনিয়োগকারীদের মধ্যে দ্বিধা তৈরি হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, যদি নতুন কমিশন গঠন করা হয়, তবে পুঁজিবাজার সংশ্লিষ্ট অভিজ্ঞ ব্যক্তিদেরই সেখানে অন্তর্ভুক্ত করা উচিত। এতে করে আইন-কানুন ও বাজার বাস্তবতা সম্পর্কে দ্রুত ও কার্যকর সিদ্ধান্ত নেওয়া সম্ভব হবে।

দিনের লেনদেন বিশ্লেষণে দেখা যায়, শুরু থেকেই বাজারে ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা তৈরি হয়। মাত্র পাঁচ মিনিটের মধ্যেই সূচক ১৪০ পয়েন্টের বেশি বেড়ে যায়। পুরো সময়জুড়ে শেয়ার ক্রয়ের চাপ বজায় থাকায় দিনশেষে সূচকের বড় ধরনের উল্লম্ফন ঘটে। দিনের শুরুতে ডিএসইএক্স ছিল ৫ হাজার ১৫৬ পয়েন্টে, যা শেষ পর্যন্ত বেড়ে দাঁড়ায় প্রায় ৫ হাজার ৩১৮ পয়েন্টে।

অন্য সূচকগুলোর মধ্যেও ইতিবাচক প্রবণতা লক্ষ্য করা গেছে। ডিএসই শরিয়াহ সূচক বেড়েছে ২ দশমিক ৮৮ শতাংশ এবং ডিএসই-৩০ সূচক বৃদ্ধি পেয়েছে ২ দশমিক ৭৭ শতাংশ। লেনদেনে অংশ নেওয়া মোট ইস্যুর মধ্যে দর বেড়েছে ৩৬৭টির, কমেছে মাত্র ১৫টির এবং অপরিবর্তিত রয়েছে ১১টির দর—যা বাজারের সামগ্রিক ইতিবাচক প্রবণতাকেই নির্দেশ করে।