জানুয়ারির বিক্ষোভে ইরানজুড়ে অস্থিরতার অভিযোগ, গোপন সহিংসতা ও বিদেশি সম্পৃক্ততার দাবি ঘিরে নতুন বিতর্ক

মাস চারেক আগের সেই জানুয়ারির ঘটনাগুলো এখনো অনেকের মনে তাজা—যেন সময়ের দূরত্ব সত্ত্বেও স্মৃতি মিলিয়ে যায়নি। ইরান (Iran)-এর রাজধানী তেহরান (Tehran)-এর গ্র্যান্ড বাজারে মূল্যস্ফীতির প্রতিবাদে শুরু হওয়া বিক্ষোভ ধীরে ধীরে ইসলামি প্রজাতন্ত্রের বিরুদ্ধে বিস্তৃত জনরোষে রূপ নেয়। কিন্তু এই আন্দোলনের ভেতরেই এমন একাধিক ঘটনার দাবি উঠেছে, যা নিয়ে এখনো প্রশ্ন ও বিতর্ক থামেনি।

বিভিন্ন প্রত্যক্ষদর্শী ও সূত্রের বরাতে বলা হয়েছে, তেহরানের একটি নিরিবিলি গলিতে ঝাড়ুদারের ছদ্মবেশে এক ব্যক্তি হঠাৎ করে রিভলভার বের করে দুই কিশোরীকে গু’\লি করে। কাস্পিয়ান সাগরের কাছাকাছি একটি উত্তরের শহর থেকে এই দৃশ্য নিজ বাড়ির ছাদে দাঁড়িয়ে দেখেছেন বলে এক ব্যক্তি দাবি করেন, যার বক্তব্য আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমকে জানানো হয়েছে।

অন্যদিকে, তেহরান থেকে প্রায় ১৫০ কিলোমিটার দূরের কাজভিন শহরেও একই ধরনের আরেকটি ঘটনার অভিযোগ সামনে আসে। সেখানে কোনো সক্রিয় বিক্ষোভ না থাকা অবস্থায় একটি রাস্তায় এক মা ও তার ছোট ছেলেকে হ’\ত্যা করা হয় বলে দাবি করা হয়, যেখানে ব্যবহৃত অস্ত্র ইরানের নিরাপত্তা বাহিনীর অস্ত্র নয় বলেও সূত্রের বরাতে বলা হয়েছে।

একই সময়ের আরেকটি ঘটনায়, পূর্ব তেহরানের একটি বিক্ষোভে অংশ নেওয়া একজন প্রত্যক্ষদর্শী জানান, মুখোশধারী একটি দল একসঙ্গে মিছিল করে স্লোগান দিচ্ছিল এবং মিছিলের নেতৃত্ব দিচ্ছিল। তাদের কৌশল ইউরোপের ‘ব্ল্যাক ব্লক’ পদ্ধতির মতো ছিল—যেখানে সংঘর্ষ শুরু হলে তারা হঠাৎ করেই অদৃশ্য হয়ে যায় বলে দাবি করা হয়, যদিও এমন কৌশল ইরানে অপরিচিত বলেও উল্লেখ করা হয়েছে।

সরকারি হিসাবে, এই বিক্ষোভগুলোতে তিন হাজারের বেশি মানুষ নি’\হত হয়েছে বলে জানানো হয়। তবে মার্কিন মানবাধিকার সংস্থা হ্রানার (HRANA) হিসেবে এই সংখ্যা কমপক্ষে সাত হাজার বলে দাবি করা হচ্ছে, যা পরিস্থিতিকে আরও বিতর্কিত করে তুলেছে।

এদিকে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে রাজনৈতিক মন্তব্যও নতুন মাত্রা যোগ করেছে। মাইক পম্পেও (Mike Pompeo) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে লিখেছিলেন, ‘ইরানের রাস্তায় থাকা প্রতিটি মোসাদ (Mossad) এজেন্টকেও নববর্ষের শুভেচ্ছা।’ একইসঙ্গে ইসরাইল (Israel)-এর এক মন্ত্রী সরাসরি দাবি করেন, ‘আমাদের লোকেরা এখন সেখানে কাজ করছে।’

এই মন্তব্যগুলো ঘটনাপ্রবাহকে শুধু আঞ্চলিক নয়, আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা ও গোয়েন্দা রাজনীতির বিতর্কেও ঠেলে দিয়েছে, যেখানে বাস্তবতা ও অভিযোগের সীমারেখা ক্রমশ জটিল হয়ে উঠছে।