ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সঙ্গে অনুষ্ঠিত গণভোট প্রসঙ্গে বিস্তারিত ব্যাখ্যা দিয়েছেন সালাহউদ্দিন আহমদ (Salahuddin Ahmed)। তিনি বলেছেন, গণভোট অধ্যাদেশ অনুযায়ী এবং আরপিও অনুসারে নির্বাচন কমিশন যে গণভোট পরিচালনা করেছে, তা সংবিধানের ১৪২ অনুচ্ছেদে বর্ণিত সাংবিধানিক গণভোটের সঙ্গে এক নয়।
রোববার (১২ এপ্রিল) বিকেলে সচিবালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন। তিনি জানান, সংবিধানের ১৪২ অনুচ্ছেদ মূলত নির্দিষ্ট কিছু গুরুত্বপূর্ণ সাংবিধানিক সংশোধনের ক্ষেত্রে জনগণের সরাসরি মতামত গ্রহণের একটি বিশেষ ব্যবস্থা, যা সাধারণ নির্বাচনের প্রক্রিয়ার সঙ্গে তুলনীয় নয়।
তিনি আরও ব্যাখ্যা করেন, এই অনুচ্ছেদ অনুযায়ী সংবিধানের প্রস্তাবনা এবং গুরুত্বপূর্ণ অনুচ্ছেদ যেমন ৮, ৪৮, ৫৬ ও ১৪২ সংশোধনের ক্ষেত্রে রাষ্ট্রপতির অনুমোদনের আগে গণভোট প্রয়োজন হতে পারে।
সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, জাতীয় ঐকমত্য কমিশনে তিনিই প্রথম এই গণভোটের প্রস্তাব দিয়েছিলেন। তার মতে, জুলাই জাতীয় সনদের আইনগত ভিত্তি নিশ্চিত করতে তখন অন্য কোনো বিকল্প ছিল না।
তিনি আরও বলেন, ভবিষ্যতে গণভোট আয়োজনের প্রয়োজন হলে তা হয় সংবিধানের ১৪২ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, নয়তো আলাদা আইন প্রণয়ন করে করা হবে। সংবিধানে এমন কোনো বিধান নেই যে সরকার ইচ্ছামতো গণভোট আয়োজন করতে পারবে না—এমন মন্তব্যও করেন তিনি।
তার বক্তব্য অনুযায়ী, গণভোটকে সাধারণ নির্বাচনের ভোটের সঙ্গে গুলিয়ে ফেলা ঠিক হবে না এবং এটি একটি আলাদা সাংবিধানিক প্রক্রিয়া।


