বিএনপির পার্টি অফিসে আগত কণ্ঠশিল্পী কনকচাঁপা (Kanak Chapa)-র সঙ্গে অশোভন আচরণের ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন দলের জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী (Ruhul Kabir Rizvi)। তিনি স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন, এ ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
রোববার (১২ এপ্রিল) দুপুরে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে রিজভী বলেন, “কেন মিসবিহেভ (অশোভন) আচরণ করা হবে? দলের যারা সত্যিকারের নিবেদিতপ্রাণ এবং সুরুচিসম্পন্ন নারী, তারা কখনো এ ধরনের কাজ করতে পারেন না।” তিনি জানান, বিষয়টি গুরুত্বসহকারে খতিয়ে দেখা হচ্ছে এবং ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
একজন শিল্পীর প্রতি এমন আচরণকে অগ্রহণযোগ্য উল্লেখ করে তিনি বলেন, “একজন শিল্পী রাতারাতি বড় হয়ে যান না। দীর্ঘ সময়ের সংগ্রাম, পরিশ্রম এবং ত্যাগের মধ্য দিয়ে তারা এই অবস্থানে পৌঁছান।” কনকচাঁপা যদি বিএনপিকে সমর্থন করে থাকেন, সেটিকে দলের জন্য ইতিবাচক অর্জন হিসেবেই দেখছেন তিনি।
রিজভী আরও বলেন, “সবাইকে কি রাজপথে নেমে রিকশার হাওয়া ছাড়তে হবে নাকি!”—এই বক্তব্যের মাধ্যমে তিনি বোঝাতে চান, রাজনৈতিক সমর্থন প্রকাশের জন্য সবার একই ধরনের ভূমিকা পালন করা বাধ্যতামূলক নয়।
তিনি উল্লেখ করেন, কোনো সেলিব্রিটির রাজনৈতিক মতপ্রকাশ বা সমর্থনকে অবমূল্যায়ন করার সুযোগ নেই। বিশ্বের বিভিন্ন দেশের উদাহরণ টেনে তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ভারতে বহু সেলিব্রিটি সক্রিয়ভাবে রাজনীতিতে অংশ নিচ্ছেন এবং গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছেন, এমনকি নির্বাচিত প্রতিনিধিও হচ্ছেন।
রিজভী বলেন, “একজন বড় শিল্পী যদি বিএনপির গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের আন্দোলনের পক্ষে থাকেন, সেটি নিঃসন্দেহে দলের জন্য ইতিবাচক বিষয়।” তিনি আরও যোগ করেন, প্রত্যেককে সরাসরি রাজপথে সক্রিয় হতে হবে—এমন কোনো বাধ্যবাধকতা নেই।
প্রসঙ্গত, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (Bangladesh Nationalist Party)-এর সংরক্ষিত নারী আসনের প্রার্থী চূড়ান্ত করতে মনোনয়ন ফরম বিক্রি ও জমা দেওয়ার কার্যক্রম রোববার শেষ হচ্ছে। এদিন কনকচাঁপা মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করতে পার্টি অফিসে গেলে এক নেত্রী তার ওপর চড়াও হন এবং গণমাধ্যমে তার আন্দোলন-সংগ্রামে ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন।


