রাজধানীর শ্যামলীতে অবস্থিত সেন্টার ফর কিডনি ডিজিজেস অ্যান্ড ইউরোলজি (Centre for Kidney Diseases and Urology) হাসপাতালে চাঁদাবাজি ও চিকিৎসককে হেনস্তার অভিযোগে অবশেষে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর জালে ধরা পড়েছে মূল অভিযুক্ত মঈন উদ্দিনসহ সাতজন। ঘটনাটি ঘিরে যে উদ্বেগ ও ক্ষোভ তৈরি হয়েছিল, সোমবার সকালের এই গ্রেপ্তারের খবরে তাতে কিছুটা হলেও স্বস্তি ফিরেছে জনমনে।
সোমবার (১৩ এপ্রিল) সকালে বিষয়টি নিশ্চিত করেন র্যাব (Rapid Action Battalion)-এর লিগ্যাল অ্যান্ড মিডিয়া উইংয়ের পরিচালক উইং কমান্ডার এম জেড এম ইন্তেখাব চৌধুরী। তিনি জানান, রোববার দিবাগত রাতে নড়াইল ও ঢাকার বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। এর মধ্যে মামলার মূলহোতা মঈন উদ্দিনকে নড়াইল জেলার কালিয়া থেকে আটক করা হয়েছে।
গ্রেপ্তার হওয়া অন্যদের মধ্যে রয়েছেন মো. ফালান মিয়া (৪২), মো. রুবেল (৪২), মো. স্বপন কাজী (৩৬) ও মো. শাওন হোসেন (২৫)। দেশজুড়ে সমাদৃত চিকিৎসক অধ্যাপক ডা. কামরুল ইসলাম (Professor Dr. Kamrul Islam)-এর কর্মস্থলে এমন ন্যাক্কারজনক ঘটনার পর দ্রুত অভিযানে নামায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী—যা সাধারণ মানুষের মধ্যে আস্থা ফিরিয়ে আনতে ভূমিকা রাখছে।
ঘটনার সূত্রপাত গত শুক্রবার (১০ এপ্রিল) সকালে। অভিযোগ রয়েছে, সাবেক যুবদল নেতা মঈন উদ্দিনের নেতৃত্বে একদল লোক হাসপাতালের ভেতরে ঢুকে এক ধরনের মব পরিস্থিতি তৈরি করে। হাসপাতালের সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, তারা ভেতরে প্রবেশ করে কর্মকর্তাদের হুমকি দিচ্ছে এবং নিয়ম ভেঙে জোরপূর্বক অপারেশন থিয়েটারে ঢুকে পড়ছে।
সেই সময় ওটি ইনচার্জ আবু হানিফকে শারীরিকভাবে হেনস্তার দৃশ্যও ফুটেজে ধরা পড়ে—যা পরে সামাজিকভাবে ব্যাপক প্রতিক্রিয়ার জন্ম দেয়। ঘটনার পরদিন শনিবার শেরেবাংলা নগর থানা (Sher-e-Bangla Nagar Police Station)-এ মঈনকে প্রধান আসামি করে অজ্ঞাত আরও ৭-৮ জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়। মামলার বাদী হন ওটি ইনচার্জ আবু হানিফ নিজেই।
হাসপাতাল সূত্র ও অধ্যাপক ডা. কামরুল ইসলামের দেওয়া তথ্যে উঠে আসে, এই ঘটনার পেছনে দীর্ঘদিনের চাপ ও ভয়ভীতি কাজ করছিল। গত ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর থেকেই মঈন উদ্দিন নানাভাবে ডা. কামরুলকে চাপে রাখছিলেন বলে অভিযোগ। তিনি জোরপূর্বক হাসপাতালে মেডিকেল সরঞ্জাম, চালসহ বিভিন্ন পণ্য সরবরাহের জন্য চাপ সৃষ্টি করতেন।
শুধু তাই নয়, বিভিন্ন সময়ে পাঁচ লাখ টাকা চাঁদা দাবি এবং হাসপাতালে কর্মরত সাবেক সরকার-সমর্থক কর্মীদের সরিয়ে দেওয়ার জন্যও ভয়ভীতি দেখানোর অভিযোগ ওঠে তার বিরুদ্ধে। অধ্যাপক কামরুল ইসলাম জানান, এর আগে দুই দফা হুমকির পর তিনি স্থানীয় পুলিশ ও বিএনপি নেতাদের কাছেও সহযোগিতা চেয়েছিলেন, কিন্তু তাতে কোনো প্রতিকার মেলেনি।
অভিযোগ রয়েছে, মঈন উদ্দিন প্রায়ই ৫০-৬০ জন লোক নিয়ে হাসপাতালের সামনে মহড়া দিতেন এবং চিকিৎসকের বিরুদ্ধে মিথ্যা অপপ্রচার চালাতেন—যা পরিস্থিতিকে আরও অস্থিতিশীল করে তোলে।
বর্তমানে গ্রেপ্তারকৃতদের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ শেষে সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তরের প্রক্রিয়া চলছে। র্যাব জানিয়েছে, হাসপাতালের মতো সংবেদনশীল স্থানে চিকিৎসাসেবা বিঘ্নিত করা কিংবা কোনো স্বনামধন্য চিকিৎসকের ওপর অনৈতিক চাপ প্রয়োগকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া অব্যাহত থাকবে।
