ভিডিও গেম খেলার দক্ষতাকে এবার পেশাগত সুযোগে রূপ দিতে যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল এভিয়েশন অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (এফএএ) শুরু করেছে এক ব্যতিক্রমী নিয়োগ প্রচারণা। সংস্থাটি মনে করছে, গেমিংয়ে পারদর্শী তরুণদের মধ্যে এমন বহু দক্ষতা রয়েছে যা সরাসরি এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোলার পেশার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ।
এফএএ-এর এই উদ্যোগের লক্ষ্য মূলত তরুণ প্রজন্মকে বিমান চলাচল নিয়ন্ত্রণ বা এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোল (Air Traffic Control) পেশার দিকে আকৃষ্ট করা। সম্প্রতি এক বিজ্ঞপ্তিতে সংস্থাটি জানিয়েছে, যারা ভিডিও গেমে দক্ষ, তারা অনেক সময় নিজের অজান্তেই এই চ্যালেঞ্জিং পেশার প্রয়োজনীয় প্রাথমিক সক্ষমতা অর্জন করে ফেলেন।
এই খাতে কর্মরতদের আয়ও অত্যন্ত আকর্ষণীয়। মাত্র তিন বছরের মধ্যে একজন এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোলারের বার্ষিক আয় প্রায় ১ লাখ ৫৫ হাজার ডলারে পৌঁছাতে পারে, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ১ কোটি ৭০ লাখ টাকারও বেশি।
যুক্তরাষ্ট্রের পরিবহনমন্ত্রী শন পি ডাফি (Sean P. Duffy) এই উদ্যোগকে আধুনিক সময়ের চাহিদার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ বলে মন্তব্য করেছেন। তার মতে, গেমারদের মধ্যে দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা, একই সময়ে একাধিক তথ্য বিশ্লেষণ করার দক্ষতা এবং প্রযুক্তিনির্ভর কারিগরি সক্ষমতা থাকে—যা এই পেশার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
নতুন প্রচারণায় অনলাইন গেমারদের পাশাপাশি কন্ট্রোল রুমে কর্মরত এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোলারদের বাস্তব কাজের দৃশ্যও তুলে ধরা হয়েছে, যাতে বোঝানো যায় গেমিং অভিজ্ঞতা কীভাবে বাস্তব জীবনের জটিল দায়িত্বের সঙ্গে সম্পর্কিত।
বিমান চলাচলের নিরাপত্তায় এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোলারদের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আকাশপথে উড়োজাহাজের অবস্থান পর্যবেক্ষণ, সম্ভাব্য সংঘর্ষ এড়ানো এবং উড্ডয়ন ও অবতরণের নির্দেশনা দেওয়া—সবকিছুই অত্যন্ত চাপপূর্ণ পরিবেশে সম্পন্ন করতে হয়।
তবে যুক্তরাষ্ট্রের এই খাতে দীর্ঘদিন ধরেই জনবল সংকট রয়েছে। ব্যুরো অব লেবার স্ট্যাটিস্টিকসের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে ১৪ হাজার ৬৬৩ জন সক্রিয় কন্ট্রোলারের একটি বড় অংশ ২০২৮ সালের মধ্যে অবসরে যাবেন। ফলে তৈরি হচ্ছে বড় ধরনের শূন্যতা, যা পূরণ করতেই এফএএ তাদের নিয়োগ কৌশলে পরিবর্তন এনেছে।
এই প্রচারণা ২০২১ সালে বাইডেন প্রশাসনের শুরু করা ‘লেভেল আপ’ উদ্যোগের ধারাবাহিকতা হিসেবে দেখা হচ্ছে, যেখানে গেমারদের লক্ষ্য করে দক্ষ জনবল নিয়োগের পথ খোঁজা হচ্ছে।
ন্যাশনাল এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোলারস অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি নিক ড্যানিয়েলস এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন, তবে একইসঙ্গে সতর্কবার্তাও দিয়েছেন। তার মতে, এটি ইতিবাচক পদক্ষেপ হলেও এ ধরনের নিরাপত্তাসংবেদনশীল পেশায় যোগ্যতার মানদণ্ড কোনোভাবেই শিথিল করা উচিত নয়।
কর্তৃপক্ষ আশা করছে, প্রযুক্তিনির্ভর এই নতুন নিয়োগ কৌশল যুক্তরাষ্ট্রের বিমান চলাচল নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থার ভবিষ্যৎ জনবল সংকট কাটিয়ে উঠতে সহায়তা করবে।
সূত্র: বিবিসি


