হরমুজ সংকটে ট্রাম্পের অবরোধে সায় নেই ব্রিটেনের, বিশ্বজুড়ে কূটনৈতিক টানাপোড়েন তীব্র

ডোনাল্ড ট্রাম্প (Donald Trump)-এর ঘোষিত হরমুজ প্রণালিতে নৌ-অবরোধ পরিকল্পনায় সাফ না বলে দিয়েছে যুক্তরাজ্য। দেশটির প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার (Keir Starmer) সোমবার (১৩ এপ্রিল) এক বিবৃতিতে জানিয়েছেন, কোনো চাপের মুখেই ব্রিটেন ইরান (Iran)-এর সঙ্গে যুদ্ধে জড়াবে না।

স্টারমার জোর দিয়ে বলেন, হরমুজ প্রণালি (Strait of Hormuz) বৈশ্বিক অর্থনীতি ও জ্বালানি সরবরাহের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি নৌপথ, তাই এটি উন্মুক্ত রাখাই এখন লন্ডনের প্রধান অগ্রাধিকার। তিনি জানান, গত কয়েক দিন ধরে যুক্তরাজ্য এই জলপথের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কূটনৈতিক প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে এবং ভবিষ্যতেও এই অবস্থান অব্যাহত থাকবে।

এদিকে এই উত্তেজনার সরাসরি প্রভাব পড়েছে ইউরোপের অর্থনীতিতে। জার্মানির চ্যান্সেলর ফ্রিডরিখ মার্জ (Friedrich Merz) ঘোষণা দিয়েছেন, জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির চাপ কমাতে আগামী দুই মাসের জন্য পেট্রোল ও ডিজেলের ওপর কর কমানো হবে। তার দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, প্রতি লিটার ডিজেলে প্রায় ১৭ ইউরো সেন্ট কর হ্রাস করা হবে, যাতে সাধারণ মানুষ ও ব্যবসায়ীরা কিছুটা স্বস্তি পায়।

অন্যদিকে চীন (China) পরিস্থিতি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে সব পক্ষকে সংযম প্রদর্শনের আহ্বান জানিয়েছে। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র গুও জিয়াকুন বলেন, হরমুজ প্রণালির স্থিতিশীলতা বজায় রাখা বৈশ্বিক জ্বালানি নিরাপত্তার জন্য অত্যন্ত জরুরি এবং এটি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের অভিন্ন স্বার্থের বিষয়।

মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনা আরও বাড়িয়ে দক্ষিণ লেবাননে নতুন করে হামলা শুরু করেছে ইসরায়েল (Israel)। স্থানীয় সূত্র অনুযায়ী, ইসরায়েলি ড্রোন ও যুদ্ধবিমান বিনত জবেইল, আল-আব্বাসিয়াহ এবং নাবাতিয়েহসহ একাধিক শহরে হামলা চালিয়েছে। এতে অন্তত পাঁচজন নি’\হত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে এবং উদ্ধার কার্যক্রম এখনো চলছে।

একই সময়ে আন্তর্জাতিক আইনি অঙ্গনেও নতুন উদ্যোগ দেখা যাচ্ছে। ফিলিস্তিনি মানবাধিকার সংগঠনগুলো অস্ট্রেলিয়ার ফেডারেল আদালতে আবেদন করেছে, যাতে ইসরায়েলে অস্ত্র রপ্তানির নথিপত্র প্রকাশে দেশটির প্রতিরক্ষা মন্ত্রীকে বাধ্য করা যায় এবং মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ খতিয়ে দেখা সম্ভব হয়।

এছাড়া জাপান (Japan) জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালি সংকট ঘিরে তারা এখনো কোনো সামরিক পদক্ষেপে অংশ নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়নি। দেশটির মন্ত্রিসভার মুখ্য সচিব মিনোরু কিহারা বলেন, টোকিও বর্তমানে সংঘাত প্রশমন এবং নিরাপদ নৌ-চলাচল নিশ্চিত করার দিকেই বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে।

সব মিলিয়ে ইরান যুদ্ধের ৪৫তম দিনে এসে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে স্পষ্ট মেরুকরণ তৈরি হয়েছে। একদিকে ট্রাম্পের অবরোধ ঘোষণায় বিশ্ববাজারে তেলের দাম ব্যারেল প্রতি ১০৩ ডলারের ওপরে উঠে গেছে, অন্যদিকে ব্রিটেন ও চীনের মতো প্রভাবশালী দেশগুলো পরিস্থিতি আরও জটিল না করার আহ্বান জানাচ্ছে।

সূত্র: আল জাজিরা