ইরানে নতুন করে হামলা হলে যুক্তরাষ্ট্র আবারও পরাজিত হবে—এমন দৃঢ় মন্তব্য করেছেন দেশটির রাজধানী তেহরান (Tehran)-এর সাধারণ মানুষ। তাদের ভাষ্য, যেকোনো সম্ভাব্য পরিস্থিতির জন্য প্রস্তুত থাকা জরুরি, কারণ দেশের সামরিক সক্ষমতা আগের তুলনায় আরও শক্তিশালী হয়েছে।
বার্তা সংস্থা রয়টার্স (Reuters)-এর এক প্রতিবেদনে উঠে এসেছে, ইসলামাবাদে দীর্ঘ ২১ ঘণ্টার বৈঠকেও ইরান (Iran) ও যুক্তরাষ্ট্র (United States)-এর মধ্যে কোনো সমঝোতা হয়নি। ফলে দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনা নতুন করে বেড়েছে।
তেহরানের এক বাসিন্দা রয়টার্সকে বলেন, “আমাদের সবসময় প্রস্তুত থাকতে হবে। আমাদের সেনাবাহিনী শক্তিশালী এবং প্রতিদিন আরও শক্তিশালী হচ্ছে। শত্রুরা আবার আক্রমণ করলে তারা আবারও পরাজিত হবে।” তার এই বক্তব্যে স্পষ্ট হয়ে ওঠে স্থানীয় জনগণের আত্মবিশ্বাস ও প্রতিরোধের মনোভাব।
আরেকজন বাসিন্দা বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের উচিত দ্রুত এই সংঘাতের ইতি টানা। তার মতে, এই লড়াইয়ে ওয়াশিংটন ইতোমধ্যেই পরাজিত হয়েছে এবং ইরানের জনগণের দাবির কাছে তাদের নতি স্বীকার করা উচিত।
স্থানীয়দের অভিযোগ, গত কয়েক দশকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি তাদের আস্থা পুরোপুরি নষ্ট হয়ে গেছে। ফলে নতুন কোনো চুক্তি বা সমঝোতা নিয়েও তারা গভীর সন্দেহে ভুগছেন।
পটভূমিতে রয়েছে সাম্প্রতিক সংঘাতের উত্তপ্ত অধ্যায়। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের পরমাণু কর্মসূচি ধ্বংসের অভিযোগে ইসরায়েল (Israel) ও যুক্তরাষ্ট্র যৌথভাবে হামলা চালায়। এর জবাবে মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন ঘাঁটি এবং ইসরায়েলের ভেতরে পাল্টা হামলা চালায় তেহরান।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পরে পাকিস্তান (Pakistan)-এর মধ্যস্থতায় ৭ এপ্রিল থেকে দুই সপ্তাহের জন্য একটি সাময়িক যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয়। তবে সাম্প্রতিক ব্যর্থ বৈঠকের পর আবারও অনিশ্চয়তা ও সংঘাতের আশঙ্কা ঘনীভূত হচ্ছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।


