টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপকে ঘিরে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (Bangladesh Cricket Board – BCB) ও ভারতীয় ক্রিকেট কন্ট্রোল বোর্ড (Board of Control for Cricket in India – BCCI)-এর সম্পর্কের অবনতি নিয়ে নতুন করে বিতর্ক সামনে এসেছে। বিশেষ করে চলতি বছরের জানুয়ারিতে মোস্তাফিজুর রহমানকে আইপিএল থেকে বাদ দেওয়ার ঘটনায় দুই দেশের ক্রিকেট প্রশাসনের সম্পর্ক চরম টানাপোড়েনে পৌঁছে যায়। এর প্রতিবাদে শেষ পর্যন্ত বাংলাদেশ দল বিশ্বকাপে অংশ নিতে ভারতে যায়নি—এমনটাই জানা গেছে।
এই প্রেক্ষাপটে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক পুনর্গঠনের লক্ষ্যে বিসিসিআইকে একটি চিঠি পাঠায় বিসিবি। শুরুতে ধারণা করা হয়েছিল, এটি দুই বোর্ডের সম্পর্ক উন্নয়নের উদ্যোগ। তবে পরে জানা যায়, এই চিঠি পাঠানোর পেছনে সরাসরি ভূমিকা রেখেছেন বর্তমান সরকারের যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক (Aminul Haque)।
দেশের একটি সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে সদ্য সাবেক বিসিবি সভাপতি আমিনুল ইসলাম বুলবুল (Aminul Islam Bulbul) এ নিয়ে তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন। তার ভাষায়, এই হস্তক্ষেপ ক্রিকেটের জন্য বড় ক্ষতির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
তিনি বলেন, “তাকে একটা কথা বলবো—আপনি ভাই ক্রিকেটের অনেক বড় ক্ষতি করে দিলেন।” বুলবুল আরও দাবি করেন, দায়িত্ব নেওয়ার প্রথম দিনেই প্রতিমন্ত্রী সরাসরি বোর্ডের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তাকে ফোন করে সাংবাদিকদের প্রবেশের নির্দেশ দেন, যা প্রতিষ্ঠানের স্বাভাবিক প্রশাসনিক কাঠামোর বাইরে।
চিঠি প্রসঙ্গেও তিনি বলেন, “কয়েক দিন আগে বিসিবি যে চিঠি দিয়েছে বিসিসিআইকে, সেটি তিনি (প্রতিমন্ত্রী) সিইওর সঙ্গে বসে করেছেন। আমি শুধু কপিতে ছিলাম।” তার মতে, এ ধরনের পদক্ষেপ বোর্ডের প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামোকে দুর্বল করে দিচ্ছে এবং এর দায়ভার ভবিষ্যতে বড় সংকট তৈরি করতে পারে।
সম্প্রতি আমিনুল ইসলাম বুলবুলের নেতৃত্বাধীন বিসিবির পরিচালনা পর্ষদ ভেঙে দেওয়া হয়েছে। এরপর জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ (National Sports Council – NSC) জাতীয় দলের সাবেক অধিনায়ক তামিম ইকবাল (Tamim Iqbal)-কে প্রধান করে ১১ সদস্যের একটি অ্যাডহক কমিটি গঠন করেছে।
তবে এই সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ করে বুলবুল নিজেকে এখনো বিসিবির বৈধ সভাপতি বলে দাবি করেছেন। তিনি বলেন, “আনুষ্ঠানিকভাবে আমিই এখনো বিসিবি সভাপতি। যারা বোর্ড ভেঙেছে, তারা তা করতে পারে না—তাদের সেই এখতিয়ার নেই।”
এই পুরো পরিস্থিতি বাংলাদেশের ক্রিকেট প্রশাসনে এক অস্থিরতা ও অনিশ্চয়তার ইঙ্গিত দিচ্ছে, যা ভবিষ্যতে দেশের ক্রিকেটের ওপর দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব ফেলতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।
