মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প (Donald Trump) আবারও বিতর্কের কেন্দ্রে। পোপ লিওর কঠোর সমালোচনার পর এবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে যিশু খ্রিস্টের বেশে নিজের একটি এআই-নির্মিত ছবি শেয়ার করে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছেন তিনি।
সোমবার (১৩ এপ্রিল) নিজের প্ল্যাটফর্ম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ কোনো ধরনের মন্তব্য ছাড়াই ছবিটি পোস্ট করেন ট্রাম্প। এর আগে ইরান যুদ্ধ নিয়ে অবস্থান জানাতে গিয়ে পোপ লিও (Pope Leo) মন্তব্য করেছিলেন, যারা যুদ্ধ শুরু করে তাদের হাত রক্তে রঞ্জিত থাকে এবং ঈশ্বর তাদের প্রার্থনা গ্রহণ করেন না। এই বক্তব্যের পরই ট্রাম্পের পক্ষ থেকে এমন প্রতিক্রিয়া এসেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
পোস্টে ট্রাম্প সরাসরি পোপকে আক্রমণ করে তাকে ‘অপরাধ দমনে দুর্বল’ এবং ‘বৈদেশিক নীতিতে ব্যর্থ’ বলে অভিহিত করেন। এমনকি তিনি দাবি করেন, তার নেতৃত্ব না থাকলে পোপের পক্ষে ভ্যাটিকানে টিকে থাকা কঠিন হয়ে পড়ত। এই বক্তব্য এবং এআই ছবিকে কেন্দ্র করে তার নিজস্ব সমর্থক গোষ্ঠীর মধ্যেও মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। অনেকে এই পোস্টকে ‘অপ্রাসঙ্গিক’ ও ‘অতিরিক্ত উস্কানিমূলক’ বলে আখ্যা দিয়ে তা সরিয়ে নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।
এর আগেও ট্রাম্প একাধিকবার কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সাহায্যে নিজের বিভিন্ন চরিত্রায়িত ছবি প্রকাশ করেছেন, যেখানে তাকে জনপ্রিয় চলচ্চিত্রের চরিত্রে উপস্থাপন করা হয়েছিল। তবে এবারের ছবিটি ধর্মীয় অনুভূতির সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত হওয়ায় বিতর্ক আরও গভীর হয়েছে।
সম্প্রতি এক সংবাদ সম্মেলনে ট্রাম্প প্রকাশ্যে জানান, তিনি পোপ লিওর কর্মকাণ্ডে সন্তুষ্ট নন। তার অভিযোগ, পোপ ইরানের পারমাণবিক ইস্যু এবং যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ অপরাধ পরিস্থিতি নিয়ে অত্যন্ত নমনীয় অবস্থান নিচ্ছেন। যদিও পোপ কখনোই ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচিকে সমর্থন করেননি।
অন্যদিকে পোপ লিও সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন, ট্রাম্প প্রশাসনের এমন বক্তব্যে তিনি বিচলিত নন। তিনি জোর দিয়ে বলেন, তার সব বক্তব্যই গসপেল বা ইঞ্জিলের শিক্ষার ওপর ভিত্তি করে এবং তিনি কোনো রাজনৈতিক বিতর্কে জড়াতে চান না। পাশাপাশি ধর্মীয় প্রতীক ও গ্রন্থকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ব্যবহার না করার আহ্বানও জানান তিনি।
ইরান যুদ্ধকে ঘিরে এই বাকযুদ্ধ ইতোমধ্যেই আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নতুন মাত্রা যোগ করেছে। একদিকে পোপের শান্তির আহ্বান, অন্যদিকে ট্রাম্পের কড়া অবস্থান—দুইয়ের সংঘাতে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠছে। এর মধ্যেই বিশ্ববাজারে তেলের দাম প্রতি ব্যারেল ১০০ ডলার ছাড়িয়ে যাওয়ায় উদ্বেগ আরও বাড়ছে।


