করলা চুরির অভিযোগে রৌমারীতে স্ত্রীকে গাছে বেঁধে পেটালেন স্বামী, এলাকায় চাঞ্চল্য

কুড়িগ্রামের রৌমারী উপজেলায় করলা চুরির অভিযোগ ঘিরে এক নারীর ওপর অমানবিক নির্যাতনের ঘটনা ঘটেছে। অভিযোগ উঠেছে, স্ত্রী ছালেহা বেগমকে (৪০) গাছে বেঁধে লাঠি দিয়ে বেধরক পেটান তার স্বামী। মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) সকাল ৯টার দিকে উপজেলার দাঁতভাঙ্গা ইউনিয়নের বংশিপাড়া এলাকায় এই ঘটনা ঘটে, যা স্থানীয়ভাবে তীব্র আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

অভিযুক্ত ছালেহা বেগম একই ইউনিয়নের ছোটধনতোলা এলাকার বাসিন্দা বদিয়া মিয়ার স্ত্রী। জানা যায়, তাদের বিরুদ্ধে পূর্বে মাদক সংক্রান্ত একাধিক মামলা রয়েছে, যা ঘটনাটিকে আরও বিতর্কিত করে তুলেছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মঙ্গলবার ভোর থেকে ওই এলাকায় করলা চুরির বিষয়ে সতর্ক ছিলেন জমির মালিক ও এলাকাবাসী। আনুমানিক সকাল ৭টার দিকে বংশিপাড়া এলাকার ফরহাদ হোসেনের জমি থেকে করলা চুরি করার সময় ছালেহা বেগমকে হাতেনাতে ধরে ফেলেন তারা। তার কাছ থেকে এক বস্তা করলাও উদ্ধার করা হয় বলে দাবি করা হয়েছে।

এরপর ঘটনাটি ছালেহার পরিবারের সদস্যদের জানানো হয়। সকাল ৯টার দিকে তার স্বামী বদিয়া মিয়া ঘটনাস্থলে এসে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া দেখান। উপস্থিত লোকজনের সামনেই তিনি স্ত্রীকে একটি গাছের সঙ্গে বেঁধে লাঠি দিয়ে মারধর করেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ দৃশ্য অনেকেই প্রত্যক্ষ করেছেন, যার ফলে এলাকায় মিশ্র প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়েছে—কেউ নিন্দা করেছেন, আবার কেউ এটিকে ‘শাস্তি’ হিসেবে দেখছেন।

জমির মালিক ফরহাদ হোসেন এ বিষয়ে বলেন, ‘আমার জমি থেকে প্রায়ই করলা চুরি হতো। পরে গোপনে নজরদারি করে ছালেহা নামের ওই নারীকে এক বস্তা করলাসহ হাতেনাতে আটক করি। এরপর তার স্বামীকে খবর দিলে তিনি এসে গাছে বেঁধে তাকে পেটান।’

অন্যদিকে দাঁতভাঙ্গা ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য আবুল হোসেন জানান, ‘করলাসহ এক নারীকে হাতেনাতে আটক করা হয়। পরে তার স্বামী এসে তাকে শাসন করে বাড়ি নিয়ে গেছেন।’

এ ঘটনায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অবস্থান সম্পর্কে জানতে চাইলে রৌমারী থানার ওসি কাওসার আলী বলেন, ‘পুরো বিষয়টি আমার জানা নেই। তবে বিষয়টি খোঁজখবর নিয়ে দেখা হবে।’